প্লেটো যখন ন্যায় রাষ্ট্রের কল্পনা করছিলেন তখন ন্যায় খুঁজে পেয়েছিলেন সেই সমাজে যখন সবাই নিজে নিজের কাজটুকুই করে। প্লেটোর মতে অন্যের কাজে নাক গলানো “ন্যায়” ভ্রষ্ট কাজ।
অদিতি ফাল্গুনী সাহিত্য করেন, গল্প উপন্যাস লেখেন। আমি সাহিত্যের লোক নই, তাই তাঁর কাজের মূল্যায়ন করতে পারবো না। ভালো লেখেন বলেই মনে হয়। সেই কাজটিই কেন উনি যে মন দিয়ে না করে রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামান সেটা বুঝিনা। এতে দেশের লাভ নেই। কারণ দেশ একজন সম্ভাবনাময় মেধা সম্পন্ন সাহিত্যিক হারাবে আর অতি সাধারণ পলিটিক্যাল এক্টিভিস্ট পাবে। এমন এক্টিভিস্ট দেশে কোটি কোটি আছেন।
রাজনীতি একটি অতি জটিল প্রপঞ্চ। ইতিহাস, দর্শন, সৌশ্যাল সাইকৌলজি, ধর্ম, লোকায়ত ধারণা, ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কল্পনা, কিছুটা প্রত্যক্ষ স্কুলিং এমন সব নানা জটিল বহুমুখী ধারণা, প্র্যাকটিস আর চিন্তার মিথস্ক্রিয়ায় রাজনীতির চিন্তা অগ্রসর হয়। এই কাজটি সহজ নয়। অদিতির কোনটাতেই বুৎপত্তি নেই; তাই অদিতি আইডিয়াকে ফাইট করতে পারেনা। ফাইট করে ব্যক্তিকে। আর সেই ফাইটে যখন আমি তাঁর লক্ষ হই তখন উত্তর দিতেই হয়। এটা শুধু আমার জন্য বিরক্তিকরই নয়, তাঁর নিজের সাহিত্য প্রতিভারও নিদারুণ অপচয়। আশা করি অদিতি ফাল্গুনী এভাবে নিজের দক্ষতার জায়গা ছেড়ে অন্য জায়গায় অযথা সময় দিয়ে ন্যায়ভ্রষ্ট হবেন না।
বাংলাদেশের ৩২৭ জন কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের মধ্যে এটা দেখার জন্য গবেষণা চালানো হয়েছিল যে, তাঁরা ইংরেজি পড়তে পারেন কিনা? গবেষণায় দেখা গেছে তাঁদের ৯৭% বাঙলার বাইরে আর কোন ভাষায় পড়তে পারেন না, বা পড়লেও বুঝতে পারেন না। সেই ৩২৭ জনের কেউই দর্শন বা নন্দনতত্ত্বের ইংরেজি বই পড়ে কিছুই বুঝতে পারেননি। এই হচ্ছে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মান। তাই বলতে দ্বিধা নেই, এইসব কবি সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেশকে দেবার কিছু নেই।
দুই একটা অপসাহিত্য রচিত হলে দেশ উচ্ছন্নে যায়না। কিন্তু অশুদ্ধ রাজনৈতিক চিন্তা একটা দেশের সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিতে পারে। গোর্কি, লেনিন বা ট্রটস্কি হতে চাননি। লেনিন ও গোর্কি হতে চাননি। লেনিন হতে চাইলে অদিতি ফাল্গুনী সাহিত্য বাদ দিয়ে রাজনীতিতে ফুল টাইম এনগেইজ হতে পারে। তবুও হয়তো মধ্যমানে পৌছুতে পারবেন। সেই বা কম কি? বাংলাদেশে চলমান মধ্যমেধার মহাযজ্ঞে একজন মধ্যমেধার ঋত্বিক প্রয়োজন।
(অনুগ্রহ করে উল্লেখিত গবেষণার লিঙ্ক জানতে চাইবেন না। যারা বাংলাদেশের রাজনীতি এবং চিন্তা নিয়ে কিঞ্চিৎ লেখাপড়া নিয়মিত করেন তাঁরা জানেন আমি কোথায় থেকে এটা কৌট করেছি)



One Response
জ্ঞান সাধনার জন্য ইংরেজিকেই একমাত্র মাধ্যম মনে করা, এটা এক প্রকার দাসত্ব৷