অনলাইনে পিনাকী ঘৃণাঃ বিপুল বিনিয়োগে পরিকল্পিত হিন্দুত্ববাদী প্রচারঃ পর্ব ১

আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে কয়েক বছর ধরে। এই কাজে আওয়ামী ঘরানার সেক্যুলারকুল খুব পারঙ্গম। ফরহাদ মজহার ভাই এক সময় আমাকে এদের সম্পর্কে সতর্ক করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘এদের আমি চিনি, এরা একটা কথা বারবার বলতে বলতে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে ফেলবে। তারা সবাই মিলে যে কাদা লাগাবে সেটা আপনি একা পরিষ্কার করতে পারবেন না।’

এই স্মীয়ার ক্যাম্পেইন হয়েছে চারটা সেক্টর থেকে। একটা তো বাকশাল অবশ্যই, সেই সাথে নাস্তিককুল, সিপিবি ঘরানার বাম এবং বাংলাদেশে বিজেপির রাজনীতির ফুট সোলজার হিন্দুরা।

এই স্মীয়ার ক্যাম্পেইনে বিভ্রান্ত হয়েছেন এক বিপুল অংশের মানুষ। তারা আমার লেখা না পড়েই এই ক্যাম্পেইনে বিশ্বাস এনেছেন। এই ক্যাম্পেইনের সপক্ষে প্রমাণ ছাড়াই তারা সব কথা বিশ্বাস করে বসে আছেন।

আমি একটা একটা করে এই স্মীয়ার ক্যাম্পেইনগুলোর ধরে ধরে জবাব দেয়ার চেষ্টা করবো।

প্রথম ক্যাম্পেইন হচ্ছে আমি অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ড জাস্টিফাই করেছি।

ভয়ানক এক মিথ্যা কথা!!

অভিজিৎ রায় যখন আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যালে নিথর হয়ে স্ট্রেচারে শুয়ে আছে, তখন আমিই ইমার্জেন্সিতে ছুটে গেছি। সেই রাতেই প্রতিবাদ জানিয়ে পোষ্ট লিখেছি। সেই পোষ্ট পরদিন গার্ডিয়ানে প্রকাশিত হয়েছে। আমি লিখেছিলাম, হত্যার জন্য বাংলাদেশে সবচেয়ে সহজ টার্গেট একজন নাস্তিক।

আমি সেদিন থেকে বইমেলায় যাইনি। আমি বলেছিলাম সহ লেখক অভিজিৎ রায়কে যেখানে হত্যা করা হয়েছে সেই হত্যার বিচার ও শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমি বইমেলায় যাবোনা।

ইন্টারেস্টিং কথা হচ্ছে অভিজিৎ মারা যাওয়ার একমাসের মধ্যে কুলদা রায় নামের এক শিবসেনা অভিযোগ করেন যে আমি নাকি লিখেছি:

“অভিজিৎকে খুন করার দায় মৌলবাদীদের উপর চাপানো ঠিক নয়। এর দায়টা অভিজিতের নিজের উপরই বর্তায়। কারণ, অভিজিৎ যা লিখেছে সবই মুসলমানদের ধর্ম ও তার নবীকে আঘাত করে লিখেছে। যদি মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত না করে লিখত তাহলে তারা ক্ষেপে যেতে না। “

আমি উপরের এই কথাগুলো কস্মিন কালেও বলিনি বা লিখিনি। প্রশ্নই ওঠেনা। কুলদা রায়কে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলাম, আমি এই কথা গুলো লিখেছি সেটা তিনি প্রমাণ করুন। নিচের শেয়ার করা লেখায় কুলদা রায় কমেন্ট করেন এবং তিনি প্রমাণ দেখাতে পারেন নি যে আমি এই কথা বলেছি বা লিখেছি। আপনারা তার কমেন্টগুলো নিচের লেখায় দেখতে পাবেন। কৌতুহলের সাথে লক্ষ্য করবেন এই কুলদা রায় কীরকম শয়তান ও ধূর্ত। আপনি সেখানে দেখবেন কারা কারা এই কাল্পনিক অভিযোগের প্রমাণ দেখাতে না পারার পরেও আমাকেই অভিযুক্ত করছে এই বলে যে, আমি লেখাটা মুছে দিয়েছি। আশ্চর্যজনক কথা হচ্ছে, এই অভিযোগ এখনো করা হয়, যা খুশী একটা লিখে দিয়ে দাবী করা হয় আমি সেটা লিখেছিলাম, কিন্তু পরে মুছে দিয়েছি।

এরপর থেকেই ধূর্ত কুলদা রায়ের কাল্পনিক অভিযোগ মুখে মুখে ঘুরতে থাকে। আমি যে কথা কখনো বলিনি সেই কথা আমার মুখে বসিয়ে দেয়া হয়। এখনো একটা বিশাল সংখ্যক মানুষ মনে করে আমি এই কথা বলেছিলাম বা লিখেছিলাম।

আমি সবসময় বলে এসেছি বাংলাদেশে হিন্দুত্ববাদী প্রচারণা সব সময়েই প্রবল। তারা যা কিছু ইচ্ছা তাই প্রতিষ্ঠিত করে দিতে পারে। যেভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছে আল মাহমুদ ছিলেন জামায়াত। এভাবেই তারা প্রতিষ্ঠা করে দিলো আমি ব্লগার হত্যায় নৈতিক সমর্থন দিয়েছি।

এখানেই শেষ নয়। কুষ্টিয়ার এক অখ্যাত লেখক একটা থ্রিলার লিখলো ‘পরজীবি তত্ত্ব’ নামে। সেই থ্রিলারের বিষয়বস্তু এমন যে একজন হিন্দু ডাক্তার একের পর এক ব্লগারকে হত্যা করাচ্ছে। চাররঙা অফেসেটে ঝকঝকে ছাপা, দারুণ প্রচ্ছদের থ্রিলার বইটা শয়ে শয়ে কপি বিতরণ করা হলো। লেখক নিজেও এমন একটা রিভিউ তার ওয়ালে শেয়ার দিলো যেখানে আমাকে ট্যাগ করেই বলা হচ্ছে এই থ্রিলারের খুনীর সাথে আমার চরিত্রের মিল আছে।

আমাকে শেষে থ্রিলার লিখে পাঠকের মনে খুনী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে দেয়া হলো। (স্ক্রিনশট ও লিংক যেখানে লেখকের আত্মস্বীকৃতি আছে, যে উপন্যাসের খুনী চরিত্র আমাকে নিয়েই লেখা)

কী বিপুল ইনভেস্টমেন্ট আর পরিকল্পনা করে তারা আমার বিরুদ্ধে স্মীয়ার ক্যাম্পেইন চালালো ভাবলে বিস্মিত হতে হয়।

তারা জানে আমি বাংলাদেশে হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষমতা রাখি, তারা আমাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিতে পরিকল্পনা নিয়েছিলো। সফল হয় নাই।

লেখাটির ফেইসবুক ভার্সন পড়তে চাইলে এইখানে ক্লিক করুন

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Feeling social? comment with facebook here!

Subscribe to
Newsletter