বিবিসির আকবর হোসেন লিখেছেন, “পাঠ্য-পুস্তক নিয়ে যে বিতর্ক হচ্ছে তার দু’টো দিক রয়েছে। প্রথমত: বইতে ভুল এবং দ্বিতীয়ত: এমন কিছু ধর্মীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেটি শুধু মুসলমানদের জন্যই প্রযোজ্য।”
ষষ্ঠ শ্রেণীর ‘চারুপাঠ’ বইয়ে সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতাটির মুল নাম ‘জাতির পাতি’, এই কবিতার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। কবিতাটি অনেক বড়, এখানে ছাড়া ছাড়া ভাবে খাবলা খাবলা দিয়ে কিছু কিছু অংশ দেয়া হয়েছে।
কবিতার শেষের দিক দেখুন ‘নিখিল জগত ব্রহ্মময়’ এটা ছান্দোগ্য উপনিষদে তৃতীয় অধ্যায়, চতুর্দশ খণ্ডের প্রথম শ্লোকের বাংলা ভাবানুবাদ – ‘সর্বং খল্বিদং ব্রহ্ম তজ্জ্বলানিতি শান্ত উপাসীত’ অর্থাৎ সব কিছুই ব্রহ্ম, ব্রহ্মেই তাদের জন্ম, পুষ্টি এবং প্রলয়।
আকবর হোসেন সাহেব এবং বাংলার স্যেকুলারবৃন্দ আমার প্রশ্ন হচ্ছে, “শুধু মুসলমানদের জন্যই প্রযোজ্য” হলে আপনাদের গা জ্বলে, আর “শুধু হিন্দুদের জন্যই প্রযোজ্য” হলে চুপ করে থাকেন কেন?
ইসলামপন্থীরা পর্যন্ত এই কবিতার বিষয়ে আপত্তি তোলেনি। আমি স্যেকুলারদের সমস্যা তো বুঝতে পারি, স্যেকুলার পোশাকের আড়ালে ইসলাম বিদ্বেষের অনেক পুরোনো অসুখ, এটা সারার নয়।
তাই আপনাদের একটা সৎ উপদেশ দেই। শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক করুন, কী পড়ানো হবে, কেন পড়ানো হবে সেই বিষয় নিয়ে আলাপ করি, শিক্ষার উদ্দেশ্য কী হবে সেটা আলাপ করি, সবাই মিলে। এটা শুধু স্যেকুলারদের আলাপ না।
সমস্যার সমাধানে ডায়ালগ করবেন নাকি, আপনাদের পুরোনা ঘা চুলকে আরাম নেবেন এটা আপনাদের চয়েস। তবে আপনারা যে নিদারুনভাবে পরাজিত হচ্ছেন, এবং পাল্টা বয়ান খাড়া করবার ইন্টেলেকচুয়াল ক্যাপাসিটি নিঃশেষ হয়ে গেছে আপনাদের, সেটা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন ততই মঙ্গল।
লেখাটির ফেইসবুক ভার্সন পড়তে চাইলে এইখানে ক্লিক করুন


