জামায়াতের সাথে আমরা কি সামাজিক বিনিময় করি না ?

গণ সংহতির ফিরোজ আহমেদ নয়া দিগন্তে সেকুলারদের লেখা নিয়ে একটা স্ট্যাটাস লিখেছেন। সেখানে নয়া দিগন্তে লেখার বিষয়ে যাদের নাম এসেছে তাঁদের সবার থেকে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে আলাদা করে উনাকে সততার প্রতিমুর্তি বানিয়ে উনাকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন ফিরোজ আহমেদ। অথচ সিইচৌও লিখেছেন, এবং অন্যরাও লিখেছেন আর তাঁদের নামেও গালাগাল হচ্ছে সে বিষয়ে কোন আলাপ নেই ফিরোজের লেখায়। ভাবখানা এমন অন্যরা গালাগাল খাক কিন্তু সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সৎ মানুষ উনাকে গালাগাল খাইতে দিলে ‘প্রগতিশীল’ আন্দোলনের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাবে।

এই ইস্যুর মোদ্দা কথাটা হল, কারও সাথে আদর্শিক সংঘাত এক জিনিস কিন্তু সেই আদর্শের ভিন্নতার কারণে সকল স্বাভাবিক মানবিক,সামাজিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের মাঝে দুর্ভেদ্য দেয়াল তুলে দেয়া আরেক জিনিস। আসলে প্রগতিবাদীদের এমন চিন্তার পিছনে আছে আর্যদের অস্পৃশ্যবাদের প্রভাব। জাতপাত বর্ণবাদিতায় ছোয়াছুয়ির চিন্তা প্রভাব। এইভাবে আদার বা অস্পৃশ্য করে ফেলার একটা রাজনৈতিক সুবিধা আছে। এর ফলে আদারের সমস্ত মানবিক সত্ত্বা কে মুছে ফেলা যায়, তখন তাকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার একটা নৈতিক বৈধতা তৈরি করা যায়। আর্যদের তৈরি করা আমাদের মনোজগতের স্ট্রাকচারে ভিন্ন মত মানেই আদার এবং অস্পৃশ্য।

জামাত >>তারা মন্দ লোক>> তারা অস্পৃশ্য>> তুমি তার পত্রিকায় লিখেছ>> তোমার জাত গেছে।

আচ্ছা, এই জামাতের সাথে কী আমরা সকলেই সামাজিক বিনিময় করিনা? পণ্য বিনিময়, শেয়ার, আত্মীয়তা ইত্যাদি সব কিছু? বাংলাদেশে তারা কী একঘরে? এক ক্লাসে বসে তাদের সাথে ক্লাস করিনি? এক দাওয়াতে গিয়ে এক টেবিলে বসে খাইনি? এক অফিসে কাজ করিনি? এক পাড়ায় বসবাস করিনি? তাদের দোকান থেকে জিনিস কিনিনি? তাদের কাছে কিছু বিক্রি করিনি? একসাথে কিছু উৎপাদন করিনি? বিনিময় করিনি? এইসবই তো সম্পর্ক স্থাপন। তাহলে এই অস্পৃশ্যবাদের প্রসঙ্গ আসছে কেন? এই প্রসঙ্গই তো অপ্রাসঙ্গিক।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরি এবং অন্যান্যদের জামাতের পত্রিকায় লেখা একটি অতি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এর অর্থ সিইচৌ বা অন্যদের যাদেরই জামাতের সাথে আদর্শের ভিন্নতা আছে এজন্য তারা সেই মতাদর্শীক লড়াই বন্ধক দেয় নাই। ফলে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সততা দিয়ে নয়া দিগন্তে লেখা জাস্টিফাই করার দরকার নাই।

জামাতের সাথে আমাদের মুল দ্বন্দ্ব মতাদর্শ। এই লড়াই যে বন্ধ করবে বা আপোষে ভুলে থাকতে চাইবে বা অন্য অগুরুত্তপুর্ন বিরোধের দিকে দৃষ্টি সরাতে চাইবে সেখানেই কড়া আপত্তি জানাতে হবে। বাকী সব বিরোধ দেখানো অহেতুক।

চেতনাবাদীর ফালতু দলবাজী বন্ধ করেন। ঘৃণা ছড়ানো আর মতাদর্শীক লড়াই একই কাজ নয়। বরং আসেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ডিসকোর্সে হিন্দুত্ববাদী অস্পৃশ্যবাদের আমদানি নিয়ে আলাপ করি। এই জাতপাতের নয়া চৌকিদার কারা তাদের চিহ্নিত করি।

লেখাটির ফেইসবুক ভার্সন পড়তে চাইলে এইখানে ক্লিক করুন

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Feeling social? comment with facebook here!

Subscribe to
Newsletter