রেনে দেকার্ট মনে করতেন মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণীর “মন” বলে কোন জিনিস নেই, তারা অবোধ ও যুক্তিহীন। একমাত্র মানুষই যুক্তিশীল কারণ তাদের মনন বলে ঈশ্বর প্রদত্ত এক ক্ষমতা আছে।
এই ধারণা প্রথম ধাক্কা খায় ডারউইনের লেখা দ্য এক্সপ্রেশন অব ইমৌশনস ইন মেন অ্যান্ড এনিম্যালস বইয়ে। এর পরেও হয়েছে নানা গবেষণা। প্রমাণিত হয়েছে তিমি থেকে ইদুর পর্যন্ত প্রাণীকুলে আবেগ, স্বার্থত্যাগ এমনকি সংস্কৃতি নির্মানের ক্ষমতা আছে; আগে যা শুধু মানুষের একচেটিয়া বলে মনে করা হত। তিমিদের আর ডলফিনদের ভিতরে গানের মতো ধ্বনি সমস্টি আছে, যা এলাকা ভেদে আলাদা। সেই ধ্বনি সমস্টি ফ্যাশনের মতো সময়ে সময়ে বদলায়।
অ্যামেরিকার ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইদুর নিয়ে একটা ইন্টারেস্টিং পরীক্ষা হয়েছিল। একটা খাচার দুই অংশে দুই দল ইদুর রাখা হয়েছে। মাঝের পাটাতনে চাপ দিলে একদিকে খাবার নেমে আসে কিন্তু অন্যদিকের প্রতিবেশী ইদুররেরা খায় বিদ্যুতের শক। খাবার নামাতে পারে শুধু একদিকের ইদুরেরা। এটা লক্ষ্য করে যেদিকের ইদুরেরা চাপ দিয়ে খাবার নামাতে পারতো সেই ইদুরেরা খাবার খাওয়াই বন্ধ করে দিল। মানুষ দিয়ে যদি এই পরীক্ষা করা হতো তারা কি ইদুরের মতোই বোকামি করতো?
বাংলাদেশের চেতনাজীবিরা ভিন্নমতের মানুষকে “ছাগল” বা “ছাগু” বলে ডাকতে মজা পায়। ভিন্ন মত তাদের কাছে ছাগলামি। মানুষকে অবলীলায় মনুষ্যেতর প্রাণীর সাথে তুলনা করে। এটা নাকি প্রগতিশীল আচরণ। এমনকি মনুষ্যেতর প্রাণীরা এদেশে বসবাসের উপযোগী নয় বলে প্রগতিশীলরা মত দেয়। চেতনাজীবিরা আধুনিকতায় ভর করে যে ঘৃণার আর হিংসার সমাজ, এক্সক্লুসিভ সমাজ তৈরি করেছে; মানুষকে শুদ্ধ মানুষ আর মনুষ্যেতর প্রাণীতে বিভক্ত করেছে। এই সমাজকে অতিক্রম করে নতুন সভ্যতা আর সমাজ বিনির্মান করাটাই এই যুগের কর্তব্য।
তথাকথিত ছাগলদের নির্মিত সমাজ সো কল্ড শুদ্ধ মানুষদের এক্সক্লুসিভ সমাজের চাইতে অনেক বেশী ইনক্লুসিভ হবে, মানবিক হবে, অগ্রসর হবে বলেই আমার বিশ্বাস।


