কাস্টমার বদলেছে, এবার ডাক্তারদের…..

আমার ডাক্তার বন্ধু মুন্না অনুযোগ করেছে, আমি কেন ডাক্তারদের সমস্যা নিয়ে লিখিনা। মুশকিল হচ্ছে, কিছু লিখতে গেলেই যদি সেটা ডাক্তারদের নিজের কায়দায় না লেখা হয় তাহলে সেই লেখার বদৌলতে ডাক্তার সম্প্রদায়ের সিনিয়র জুনিয়র যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তাতে লেখার উৎসাহ হারিয়ে ফেলি।

খেয়াল করলে দেখবেন, ডাক্তার সম্প্রদায়ের অনুযোগ অভিযোগের সাথে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ অনুযোগের মিল আছে। সাধারণভাবে তাঁরা বলতে চান, “আমরা নির্যাতিত, আমাদের কর্মক্ষেত্রে কোন নিরাপত্তা নাই”। খেয়াল করে দেখুন একই কায়দায় অভিযোগ জানায় বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়। আবার এই ডাক্তার সম্প্রদায় যখন ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন করে তখন বছরের পর বছর নির্বাচিত করে আওয়ামী লীগের ডাক্তারদের।

তাহলে ডাক্তারদের কি কর্মক্ষেত্রে কোন সমস্যা পোহাতে হয়না? অবশ্যই হয়। সারা পৃথিবীতে হয়। আমি একবার একাত্তর টিভির এক টক শো তে বি এম এর এক শীর্ষ নেতাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাংলাদেশের ডাক্তারদের বিরুদ্ধে সহিংসতার কোন পরিসংখ্যান বি এম এর কাছে আছে কিনা? বলাই বাহুল্য ছিলনা। এমন গুরুত্বপুর্ণ পরিসংখ্যান হাতে না রেখে আপনারা মাঠ গরম করতেছেন। আপনার আর্গুমেন্ট তৈরি করবেন কীসের উপর দাঁড়িয়ে?

ডাক্তার বন্ধুরা স্বীকার করুক বা না করুক, এটা সত্য, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সাথে ডাক্তারদের একটা বিশাল দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। কেন হয়েছে বৈজ্ঞানিকভাবে আপনারা কি সেই কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন? তাঁর ভিত্তিতে আসলেই কোন রিফর্মের দরকার আছে কিনা সেটা দেখেছেন? সেই রিফর্ম করেছেন?

আমার একটা হাইপোথিসিস আছে, চাইলে কেউ টেস্ট করতে পারেন। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশে ক্যাপিটালিজম যখন থেকে ফুল ব্লৌন হয়েছে তখন থেকেই এই সমস্যা বেশী বেশী ঘটতে শুরু করেছে। খেয়াল করে দেখুন ৯০ এর পর থেকে এই সমস্যাগুলো শুরু। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রোগীর সাথে যে প্রাক পুজিতান্ত্রিক ফিউদাল সম্পর্ক ডাক্তারেরা এনজয় করতো সেটা ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে সেই সময় থেকেই। চিকিৎসা হয়ে ওঠে পণ্য, রোগীরা ক্রেতা আর চিকিৎসকেরা সেবা বিক্রেতা। চিকিৎসা সেবা বিক্রি হয় ডাক্তারের হাত দিয়েই। একদিকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পণ্য হয়ে উঠেছে; কিন্তু আরেকদিকে চিকিৎসকেরা বিক্রেতা হয়ে উঠতে পারেনি বা রোগীকে ক্রেতা ভাবতে পারেনি। এটা ডাক্তারদের দোষ নয়, ডাক্তারদের ক্যাপিটালিজম বা মার্কেটিং পড়ানো হয়না।

রোগীরা কাস্টমার স্যাটিসফেকশন চায়, আর ডাক্তারের কাছে বিক্রেতার সেবা, বিনয় চায়। সে তাঁর টাকার ভ্যালু চায়। আমরা পছন্দ করি বা না করি এটাই পুজিতান্ত্রিক সম্পর্ক। এই সম্পর্কের ভিত্তিতেই রিফর্ম দরকার। কাস্টমার বদলেছে, এবার ডাক্তারদের নিজেদের বদলাতে হবে। পুজিবাদে কাস্টমার ইজ অলয়েজ রাইট। কাস্টমারের কোন চাওয়াই অনায্য নয়।

চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থায় একটা বড় ধরণের রিফর্ম দরকার। নইলে স্বাস্থ্য সেবার এই বাজার শুন্য থাকবেনা। হরতাল ধর্মঘট করে আর আবেগী কথাবার্তা দিয়ে কিচ্ছু হবেনা। প্লিজ ডু সাম্থিং রিয়েল।

লেখাটির ফেইসবুক ভার্সন পড়তে চাইলে এইখানে ক্লিক করুন

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Feeling social? comment with facebook here!

Subscribe to
Newsletter