আমি কেন বিদেশে চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্য তোলাকে অনৈতিক মনে করি

কারো মৌলিক অধিকার পুরণ করার দায় রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েই এই দায়িত্ব নেয়। কিন্তু রাষ্ট্র যখন তার এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তখন সমাজ সেই দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসে। সেভাবেই আমরা কারো লেখাপড়ার দায়িত্ব নেই, চিকিৎসার দায়িত্ব নেই, খাদ্যের দায়িত্ব নেই। কিন্তু সমাজ কতটুকু দায়িত্ব পালন করবে সেটার একটা সীমানা আছে। সমাজ করবে ততটূকুই যতটুকু বেইসিক নেসেসিটি। সমাজ তাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর দায়িত্ব নিলেও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য কাউকে সাহায্য দেয়না; ভাত খাওয়ার পয়সা দিলেও বিরিয়ানি খাওয়ার পয়সা দেয়না, শখ হলেও দেয়না। কারণ, সমাজ কাউকে লাক্সারি করার জন্য সাহায্য করেনা, সমাজের আরো অনেক দায় আছে।

কেউ একজন নিজেকে দরিদ্র বলে দাবী করছে, সে দাবী করছে তার রোগের চিকিৎসার ব্যয় বহনের সামর্থ্য তার নেই। ভালো কথা, কিন্তু তাহলে তো প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে রাষ্ট্র কি তার চিকিৎসার দায় নেয়নি? সে কি সরকারী হাসপাতালে গিয়েছিল? সেই সরকারি হাসপাতালে গিয়ে যদি সে দেখে সরকারী রিসোর্স পুর্ণভাবে ব্যবহার করার পরেও সেখানে চিকিৎসাতে কিছু খরচ হচ্ছে এবং সেই ব্যয় মেটাতেও সে অক্ষম, তখন নিশ্চয় সমাজ সেই ব্যয় মেটানোর দায় নেবে।

কিন্তু একজন বিদেশে চিকিৎসা করতে যাবে অথবা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নেবে সেটার দায় কেন সমাজ নেবে? কর্জ করে বা দানের টাকায় ঘী খাওয়ার শখ কোন সুস্থ শখ নয়। তাই এই প্রবণতাকে প্রশ্ন করাটা সমাজের দায়িত্ব।

সমাজের রিসোর্স আছে কিন্তু সেটা আনলিমিটেড নয়। সমাজের আরো অনেক দায় পালন করতে হয়। একজনের লাক্সারির পিছনে তার সিংহভাগ রিসোর্স চলে গেকে সমাজ তার অন্য দায়গুলো পালন করবে কী দিয়ে? কারো লোভ বা অপরিণত বিবেচনাবোধ যেন আমাদের সামাজিক বিবেচনাবোধকে মেঘাচ্ছন্ন করে দিয়ে সমাজের অন্যান্য দায় পালনে বিঘ্ন সৃস্টি করতে না পারে সেজন্য সকলের সচেতনতা দরকার।

আমাদের কাছে সমাজ, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির চাইতেও গুরুত্বপুর্ন প্রতিষ্ঠান। সমাজ সবার জন্যই যেন ন্যায়সংগত আচরণ করতে পারে সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সমাজের সকল সদস্যের।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Feeling social? comment with facebook here!

Subscribe to
Newsletter