২৯শে অক্টোবর ১৯৫১ পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফারাক্কা নির্মানের পরিকল্পনায় তাদের উদ্বেগের কথা লিখিতভাবে ভারত সরকারকে জানায়। ৮ ই মার্চ ১৯৫২ ভারত সরকার লিখিতভাবে উত্তর দেয়। তারা বলে “The project is only under preliminary investigation, and that concern was “hypothetical”.”
“প্রকল্পটি এখন প্রাথমিক সমীক্ষা মুলক পর্যায়ে আছে এবং আপনাদের উদ্বেগ অনুমান নির্ভর”
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। যারা সেই সময় প্রতিবাদ করেছিলেন তাদের সাথে আমাদের রাজনৈতিক বিচ্ছেদ হয়েছে এবং যারা উদ্বেগকে “অনুমান নির্ভর” বলে উত্তর দিয়েছিলেন তাঁরা স্বর্গবাসী হয়েছেন।
কিন্তু উদ্বেগ অনুমান নির্ভর ছিলনা। সেই জ্ঞানের কথা যারা বলেছিলেন তাদের ধরার কোন উপায় নেই। কিন্তু ভারত রাষ্ট্র তো সেই মন্তব্যের দায় উপেক্ষা করতে পারেনা।
১৯৭২ এ যে ভারত বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয় সেটার বিবেচ্য বিষয়ে গঙ্গার পানি বণ্টন ইস্যুটা ছিলনা। দুটো অসম শক্তি যখন মোকাবেলা করে তখন সিদ্ধান্ত শক্তিমানের পক্ষেই যায়। ফারাক্কা ইস্যুটাকে প্রথম থেকেই শক্তিশালী তৃতীয় পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে আমরা একটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতাম। অবাক বিষয় এই যে, ফারাক্কা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অভিযোগ প্রথম জাতিসংঘে দাখিল করি ১৯৭৬ এর জানুয়ারিতে। ততদিনে যা ক্ষতি হবার হয়েই গেছে।
২০০২ সালে ভারত মেগা রিভার লিংকিং প্রজেক্টের কথা ঘোষণা করেছে। এখনই আমরা আন্তর্জাতিকভাবে এই বিষয়টা তুলে ধরতে ব্যর্থ হলে আরেকটা মহা সর্বনাশ হয়ে যাবে। আমরা সম্ভবত এখনো ভারতের “অনুমান নির্ভর” কথাটার উপর ভিত্তি করে ফারাক্কা ইস্যুতে ভারতকে ক্ষতিপূরণ দানে বাধ্য করতে পারি।
সূত্র: Case Study of Transboundary Dispute Resolution: the Ganges River controversy; Authors: Aaron T. Wolf and Joshua T. Newton


