বাংলাদেশ সরকারের ট্যাক্স রেভিনিউ বেড়েছে। এই বাড়তি ট্যাক্স রেভিনিউয়ের উপরে দাঁড়িয়েই আজকে আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের গল্প শোনায়।
যদিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এই উন্নয়নের ফানুস বেকারত্ব বাড়িয়েছে, ধনী-গরীব বৈষম্য বাড়িয়েছে। তারপরেও ট্যাক্স রেভিনিউ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কি আওয়ামী লীগের কোন আলাদা কৃতিত্ব আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।
২০০২ সালে বিএনপি আমলে ইউ কে সরকারের আর্থিক সহায়তায় রিফর্মস ইন রেভিনিউ এডমিনিস্ট্রেশন সংক্ষেপে RIRA প্রজেক্ট চালু করা হয়। এই প্রজেক্টের উদ্দেশ্য ছিলো স্বচ্ছ দক্ষ ট্যাক্স প্রশাসন গড়ে তোলা।
২০০৪ সালে বিশ্ব ব্যাংকের সাড়ে চার বিলিয়ন টাকার আর্থিক সহায়তায় RAMP বা রেভিনিউ এডমিনিস্ট্রেশন মডার্নাইজেশন প্রজেক্ট গ্রহণ করা হয়। র্যাম্প প্রজেক্টের লক্ষ্য ছিলো ট্যাক্স সংগ্রহের যে কাঠামো আছে তার সংস্কার, ট্যাক্স সংগ্রহের পদ্ধতি সহজ করা ও রেভিনিউ বোর্ডের মানবসম্পদের উন্নয়ন করা। বিএনপি সরকার যদিও র্যাম্প প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করার সুযোগ পায়নি। কিন্তু এই দুই রিফর্মের পূর্ণ সুযোগ পায় ওয়ান ইলেভেনের সরকার।
ওয়ান ইলেভেনের সরকার রেভিনিউ এডমিনিস্ট্রেশনে
২০০৬ এ জিডিপি গ্রোথ বেড়ে ৬.৬ এবং ২০০৭ এ জিডিপি গ্রোথ ৭ এর উপরে যায়। ২০০৮ এও এই জিডিপি গ্রোথ ৬ হয়।
ওয়ান ইলেভেনের সরকারের প্রবৃদ্ধির এই সাফল্যের উপরে দাঁড়িয়েই আওয়ামী লীগ ক্ষমতা নেয়। যেই ভিত তৈরির কাজ চলেছিলো গত ছয় বছর, তার পুরো সুবিধা পায় আওয়ামী লীগ। যদিও তার ক্ষমতা নেয়ার প্রথম বছরেই এই জিডিপি গ্রোথ কমে আসে ৫ এ, তারা ওয়ান ইলেভেন সরকারের গড়ে দেয়া সেই সাফল্যের ধারা ধরে রাখতে পারনি। ওয়ান ইলেভেনের সরকার যা দুই বছরে করে দেখিয়েছিলো সেই সময়ের সমান প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে দেশকে ২০১৬ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
এই হইতেছে বাংলাদেশের উন্নয়নের দাবীদারদের গল্প। কাজ করে দেয় একজন, আর সুফল নেয় আরেকজন। ডিম পাড়ে হাঁসে, আর খায় বাঘ-ডাসে। বিএনপি আর ওয়ান ইলেভেনের পাড়া ডিম খাইয়া আজ আওয়ামী লীগ আমাদের উন্নয়নের গল্প শোনায়। আফসোস।
লেখাটির ফেইসবুক ভার্সন পড়তে চাইলে এইখানে ক্লিক করুন


