তরুণদের হাত ধরেই নতুন এক বাংলাদেশ গড়ে উঠতে পারে !

সকালে উঠেই দেখলাম ফেবুতে ফলোড বাই এক লাখ পিপল। আনন্দের সংবাদ!

এই এক লাখ মানুষ শুধু আমার লেখা পড়ার জন্য ফেবুতে আমাকে ফলো করেন। এদের সবাই আমার প্রতি বন্ধুসুলভ নয়, কিন্তু শত্রুজ্ঞানেও আমাকে তাদের ফলো করা ছাড়া উপায় নাই। শুকরিয়া।

আমার ফেবু বা ব্লগে লেখালেখির বয়স খুব বেশী নয়। ধরতে গেলে আমি নবীন। আমাকে অনেক কিছুই তাই শিখতে হয় এবং হচ্ছে। আমার পড়াশোনাও যে আহামরি রকমের ভালো তাও নয়, তাই আমাকে পড়তে হয়। আমার পেশা আছে, পরিবার আছে, বন্ধুরা আছেন; সেখানে সময় দিয়ে খুব যে বেশী সময় পাইনা লেখালেখির জন্য। আমি রক্ত মাংসের মানুষ, তাই মাঝে মাঝে ভুল যে করিনি তা নয়। তবে সেগুলোকে শুধরে নিয়ে সেখান থেকে সামনে এগিয়েছি। আমার লেখা যারা পড়েন তারাই ভুলগুলো ধরিয়ে দেন, তাদের এই সুযোগে ধন্যবাদ জানাই।

আমি এও জানি যে আমি কারো জন্য নিরন্তর অস্বস্তির কারণ। এর মুল কারণ তারা আমার লেখা প্রেজুডিস নিয়ে পড়েন। প্রেজুডিস ঝেড়ে ফেলে লেখাটা পড়ার হিম্মত যেদিন অর্জন করবেন সেদিন আপনার অস্বস্তি কমবে আশা করি।

আপনাদের প্রতি আমার একটা বিনীত উপদেশ, আপনার চিন্তা জনগনের উপরে চাপিয়ে না দিয়ে জনগনের কাছে থেকে শিখুন। তারা সবচেয়ে বড় শিক্ষক। আপনি ঠিক যেদিন থেকে এই শিক্ষা নেবার জন্য প্রস্তুত হবেন ঠিক সেদিন থেকেই আপনার মধ্যে হবে বিপ্লব। আপনি হাজারো চেষ্টা করেও সেই নিজের ভেতরে বিপ্লব ঘটে যাওয়া মানুষকে আর ঠেকিয়ে দিতে পারবেন না। আপনি যদি সত্যিই কোন বিপ্লব চান, যদি চান জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের বিজয় হোক আর মজলুমেরা এমন সমাজ ও বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলুক যেন শোষণের মুল কাঠামোকেই চিরতরে উপরে ফেলা যায় তাহলে মার্ক্স লেনিনের চাইতে জনগনকে পাঠ করা জরুরী। তার ভাষায় কথা বলা তার ভাব স্বপ্ন কল্পনাকে চিনতে পারাটা জরুরী।

আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাঠ এটাই যাদেরকে আমি প্রগতিশীল বলে জানতাম তারাই প্রগতির সবচেয়ে বড় শত্রু। তারাই মানুষে মানুষে বিভক্তির সবচেয়ে বড় কারিগর তারাই বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনার সামনে বাধার পাহাড়।

বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা তার তরুণেরা, তারা দারুণ মেধাবী কর্মঠ আর স্বাপ্নিক। তাদের হাত ধরেই এক নতুন বাংলাদেশ উঠে দাড়াতে পারে, যদি আমরা তাদের সামনে বাধা হয়ে না দাড়াই। দে ডিজার্ভ এ বেটার কান্ট্রি। আমার দায় তাদের কাছেই। আমি লিখি তাদের জন্যই।

লেখালেখি দিয়ে আগামী দিনেও সৃষ্টিকর্তা আমাকে এই তরুণদের পাশে থাকার তৌফিক দিন।

লেখাটির ফেইসবুক ভার্সন পড়তে চাইলে এইখানে ক্লিক করুন

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Feeling social? comment with facebook here!

Subscribe to
Newsletter