রাশিয়াতে বিপ্লব হয়েছে। বিপ্লবীদের লাল ফৌজ আর প্রতিবিপ্লবীদের শ্বেত বাহিনী। শ্বেত বাহিনী নবসৃস্ট সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ চালাচ্ছে তাকে ধংস করার অভিপ্রায়ে। এই শ্বেত বাহিনীতে যোগ দিয়েছে নানা দেশের সেনারা। বৃটিশ রাজ কয়েক রেজিমেন্ট সেনা পাঠিয়েছে ভারত থেকে শ্বেত বাহিনীর হয়ে লাল ফৌজের বিরুদ্ধে ট্রান্স ককেশাস অঞ্চলে যুদ্ধ করার জন্য।
এই রেজিমেন্টের একটা বড় অংশ ছিল মুসলমান সৈনিক। তারা সেখানে গিয়ে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কথা শুনে, সাম্যের সমাজের কথা শুনে লাল ফৌজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানায়। শুধু তাই নয়, এই রেজিমেন্টগুলোর একাংশ বিদ্রোহ করে লাল ফৌজে যোগ দেয়।
এমন একজন বিদ্রোহী সেনা ছিলেন মুর্তাজা আলী। তিনি নিকোলাই গিগালোর গেরিলা বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। এই বীর যোদ্ধা শ্বেত বাহিনীর জন্য ছিলেন সাক্ষাৎ আজরাইল। তার নামে শ্বেত বাহিনীর মনে ত্রাসের সঞ্চার হতো। অসংখ্য সফল গেরিলা অপারেশনের পরে একটা গেরিলা অপারেশনের সময় তিনি রনক্ষেত্রেই শহীদ হন।
নিকোলাই গিগালোর বোন ভেরা গিকালো ককেসাস যুদ্ধে মুর্তাজা আলীর গেরিলা দলে ছিলেন। তিনি লিখেছেন, “আজকাল সোভিয়েত ও ভারতীয় জনগনের ভাতৃত্ব সম্বন্ধে আমি যখন মর্মস্পর্শী অনেক কথা পড়ি তখন আমার চিন্তা জগতে জাগরূক হয়ে ওঠে সেই নম্র, সাহসী ও আন্তর্জাতিকতাবাদী যোদ্ধাদের কথা। সংখ্যায় তারা মুষ্টিমেয় ছিলেন, কিন্তু সাহসী মুর্তাজা আলীর মতো জনগনের মুক্তির খাতিরে তারা নিজেদের জীবনের তোয়াক্কা করতেন না।”
ঠিক এই সময়েই কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে সেনা ক্যাম্পে। মুর্তাজা আলীর গল্প তাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে। তিনি মুর্তাজা আলীর গল্পকে উপলক্ষ্য করে বেলুচিস্তানের পটভুমিকায় লেখেন “ব্যথার দান”। তার এই গল্পে ত্রিভুজ প্রেম, দারা আর সয়ফুল মুল্ক; দুজনেই ভালোবাসে বেদৌরাকে। দারা লালফৌজে যোগ দেয়। সাহসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে দারা অন্ধ ও বধির হয়ে যায়। এই দারার চরিত্রটি তিনি লিখেছিলেন অজেয় যোদ্ধা মুর্তাজা আলীর স্মরণে।
যেই সাম্যের আদর্শের প্রতি এই অঞ্চলের মুসলমানেরা স্বভাবিকভাবেই আকৃষ্ট হতো, সেই ধর্ম সম্প্রদায় কেন সমাজতন্ত্রের ধারনাকে প্রতিপক্ষ ভাবে সেই সুলুক সন্ধানের দায় এই যুগের বামপন্থীদের। তারা কি একবার আত্মানুসন্ধান করবেন?


