প্রণব মুখার্জীর সমালোচনা হওয়াতে মাসুদা ভাট্টি খুব মাইণ্ড করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি প্রণব ভারতীয় না হতেন বা হিন্দু না হয়ে মুসলমান হতেন তবে প্রণবের হয়তো এই মাত্রায় সমালোচনা হতোনা।
মাসুদা ভাট্টিরা যেটা বুঝতে চাননা, তা হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ কেন এমন তীব্রভাবে ভারতবিরোধী হল এবং প্রনব বিরোধী হল।
বাংলাদেশের মানুষ মনে করে ভারতের আশীর্বাদপুস্ট হয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আছে। তাদেরই প্রত্যক্ষ মদদে গত ভোটার বিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পেরেছে এবং এমন অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরেও সরকার ক্ষমতায় থাকতে পেরেছে। গত নির্বাচনে ভারত রাষ্ট্র নক্ক্যারজনকভাবে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। মানুষ বিশ্বাস করে তার রাজনৈতিক অধিকার হরন করার পিছনে একমাত্র কারণ ভারত। তারা এটাও আশংকা করে বাংলাদেশকে ভারত তার করদ রাজ্যে পরিণত করতে চায়। বাংলাদেশে ভারতের এই রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনের প্রাণপুরুষ হিসেবে মানুষ প্রনবকে চিনেছে। প্রনব মুখার্জী ভারতের এই আগ্রাসনের প্রতীক। প্রনবকে এভাবে চেনার পিছনে তার সাম্প্রতিক প্রকাশিত বইয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার হস্তক্ষেপের স্বীকারোক্তি একটি নিয়ামক ভুমিকা রেখেছে।
ভারতের এই আগ্রাসন মানুষের মর্যাদায় আঘাত করেছে। মানুষ পেটের ক্ষুধা সহ্য করে মর্যাদায় আঘাত সহ্য করেনা। উর্দুকে যখন রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, তখনও আমাদের মর্যাদায় আঘাত লেগেছিল। পশ্চিম পাকিস্তানিরা মুসলমান এইজন্য কোন ছাড় আমরা দেইনি। পুর্ব পাকিস্তানের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে অস্বীকার করে পশ্চিম পাকিস্তান আমাদের মর্যাদায় আঘাত দিয়েছিল। তাই মুসলমান ইয়হিয়ার পাছায় লাথি মেরে হিন্দু ইন্দিরাকে বন্ধু বলে বরণ করে নিতে কোন সমস্যা হয়নি।
প্রনবের নাম কালাম হলেও সে একইভাবে তার ভুমিকার কারণে বাংলাদেশে ঘৃনিত হতো। মুসলমান নাম থাকার কারণে ইয়াহিয়া যেমন ছাড় পায়নি সেই কল্পিত কালামও ছাড় পেতনা।
মাসুদা ভাট্টির মূল লিখাটা পড়তে এখানে ক্লিক করুন


