পুলিশের পিটানির ছবি দেইখ্যা যারা আহা উহু করতাছেন তাদের কই। পুলিশের পিটানি খাইছেন কখনো?
আমি খাইছি। ১৯৯০ এ তখন আমি মেডিক্যাল কলেজের ফিফথ ইয়ারের ছাত্র।
এ এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। এমন বিভৎস পীড়ন আর হয়না। মনে হয় মইর্যা যাই না কেন, সেও ভালো। কোন মানুষ সুস্থ মাথায় তার শত্রুরেও এইভাবে পিটাইতে পারবো না। সম্ভব না।
ওদের বোনি প্রমিনেন্স গুলা চেনানো হয়, মানে যেই হাড্ডির উপর মাংস থাকেনা। তার উপরে লাঠি দিয়া সর্বশক্তি দিয়া বাইড়ায়। হাটুর নিচে পায়ের সামনে, বুকের পাজড়ায়। বুকের পাজড়ায় বাড়ি পরলে দম বন্ধ হইয়া আসে। আমি মনে হয় সেই সময় মিনিট খানেক সহ্য করতে পারছিলাম বা তারও কম, জ্ঞান হারাইছিলাম। আমারে একাই ধরছিল, আমি নিরস্ত্র ছিলাম, আমি অচেনা কেউ ছিলাম না পুলিশের কাছে। পুলিশ চিনতো আমারে রাজশাহী মেডিক্যালের জি এস হিসেবে। আমি পুলিশের জন্য ইমিডিয়েট থ্র্যাট ছিলাম না যে একা পাইয়া আমারে সাইজ করতে হইবো। বা আগের কোন ঝগড়া আছিল যে ঝাপাইয়া প্রতিশোধ নিতে হইবো।
এইটা তো রাস্তায় পিটানির বয়ান দিলাম। পুলিশি হেফাজতে কী হয় সেইটা আরেক কাহিনী। সেই কাহিনী মনে হয় প্রথম জানতে পারি ইলা মিত্রের জবানীতে।
পুলিশ অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করছে কিনা? প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে শক্তি প্রয়োগ করছে কিনা, এইটা কে দেখবে? এইটা দেখে পুলিশ বাহিনী নিজেই। এইটা কিছু হইলো? পুলিশ নিজেই নিজের নিয়ন্ত্রক হইতে পারে? এইটার যদি কোন নাগরিক নিয়ন্ত্রণ না থাকে তাহলে অবর্ণনীয় দানবীয় শক্তির প্রকাশ আমরা দেখতে থাকবো।
এই আলোচনা শুরু হওয়া দরকার। শক্তিশালী পুলিশ বাহিনীর দরকার আছে যে কোন রাস্ট্রের, কিন্ত সেই শক্তি মানে পিটানির ক্ষমতা না, নির্মমতার ক্ষমতা নয় বরং জবাবদিহি মুলক নিয়ন্ত্রিত শক্তির ব্যবহারের ক্ষমতা।
আমরা পুলিশ বাহিনিরে পাওয়ার দিছি অবারিত কিন্তু কন্ট্রলের কোন জায়গা রাখি নাই। তাই পুলিশদের মাঝে মাঝে রাজা হইতে ইচ্ছা করে, বিচারক হইতে ইচ্ছা করে আবার জল্লাদ হইতেও ইচ্ছা করে। আর এই ইচ্ছা পুরানির কামে পাবলিকের জান বরবাদ হইয়া যায়।


