হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংরক্ষিত আসনের দাবী রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার পায়তারা।

যুগান্তর, ৮ ই এপ্রিল ২০১৭ এ একটি সংবাদ ছাপা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “জাতীয় সংসদে ৬০টি সংরক্ষিত আসন চায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। এছাড়া তাদের সাত দফা দাবির মধ্যে অন্যতম আরও দুটি দাবি রয়েছে। এগুলো হল সংখ্যালঘুবিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন। শুক্রবার হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নবম জাতীয় সম্মেলন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে দু’দিনব্যাপী এই ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলন থেকে রাজনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের নেতারা বলেন, জাতি-ধর্মের রোষানলে দেশ প্রায় ধ্বংসের পথে। আজ কেবল সংখ্যালঘুই আক্রান্ত নয়, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আক্রান্ত, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতাও আক্রান্ত। সার্বিকভাবে গোটা বাংলাদেশই আক্রান্ত। এর বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে লড়াইয়ে নামতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ রক্ষায় সংখ্যালঘুদের ন্যায্য অধিকার কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দিতে হবে।”

এই দাবী তাঁরা কার কাছে জানালো? সন্মেলনে রাজনৈতিক দলগুলো সবাই এসেছে জামাত আর বি এনপি ছাড়া। যারা এসেছে তাঁরা সংহতি জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ তো ছিলোই, জাতীয় পার্টিও সংহতি জানিয়েছে। তাহলে যারা আসেনি তাঁদের কাছেই কি দাবী জানানো হচ্ছে? জামাত নাহয় বুঝলাম তাঁদের অপছন্দের দল কিন্তু বিএনপিকে কেন সন্মেলনে দাওয়াত দিলোনা? এর যুক্তি কি? যুক্তি একটাই হতে পারে, এই হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গড়াই হয়েছে দল হিসেবে বিএনপিকে বাশ দেয়ার জন্য। আর তো কোন যুক্তি নাই।

এইবার আসেন তাঁদের দাবী নিয়ে। তাঁরা বলছে, হিন্দু নেতা নির্বাচন করবে হিন্দুরাই, এবং হিন্দুরা মুসলমান নেতাকে নির্বাচিত করবেনা। এর চাইতে সাম্প্রদায়িক বিভেদাত্মক কোন দাবী হতে পারে? সম্প্রদায়ের আলাদা আলাদা নির্বাচন তো রিপাবলিকান স্টেইটের ধারণার সম্পুর্ন বিপরীত। এতে তো বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রই থাকেনা। আর তাঁরা বলে “মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ রক্ষায় সংখ্যালঘুদের ন্যায্য অধিকার কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দিতে হবে”???!!! এইটা তো বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রের বারোটা বাজানোর তরিকা। এই দাবী তো এটাই বলে হিন্দু আর মুসলমান একসাথে এক রাষ্ট্রে থাকতে পারেনা। এই সর্বনাশা দাবী যেখানে তোলা হয় সেখানে আমাদের বাম স্যেকুলারেরা সবাই যায়, আর সেই সন্মেলন উদ্বোধন করেন আমাদের সো কল্ড বুদ্ধিজীবী রেহমান সোবাহান।

এদের বয়স তো কম হয়নি, বুদ্ধিশুদ্ধি কবে হবে? বাংলাদশের ম্যালা সেবা করছেন দাদুভাইয়েরা, এইবার আপনারা ক্ষ্যামা দ্যান। রেস্ট নেন বয়স তো হইছে, তাইনা?

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Feeling social? comment with facebook here!

Subscribe to
Newsletter