হিন্দু ধর্মের সাধকদের কপালে কিছু বিচিত্র চিহ্ন থাকে। আমরা বাঙলায় বৈষ্ণবদের কপালে এমন চিহ্ন দেখতে পাই। কপালে ছাড়াও এই চিহ্ন সমুহ বুকে বা বাহুতে আকা থাকে। এগুলো তাদের সাম্প্রদায়িক চিহ্ন। প্রথমত সে কোন শক্তির উপাসক সেটা বুঝাবার জন্য বিশেষ ধরণের চিহ্ন। সেই বিশেষ চিহ্নের সামান্য ভ্যারিয়েশনে নানা উপ সম্প্রদায়ের পরিচিতি সেই চিহ্নের মধ্যে ব্যক্ত হয়।
এই চিহ্ন গুলো লাল, হলুদ, কালো এবং চন্দনের মতো সাদাটে রঙে হয়ে থাকে। এগুলো সাধারণত যজ্ঞের ছাই, চন্দন, চুন, হলুদ দিয়ে আকা হয়ে থাকে, কখনো কখনো ঘনত্ব বাড়ানোর জন্য চালের গুড়া যুক্ত করা হয়ে থাকে।
মুলত তিন ধরণের চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
১/ শিবের অনুসারী শৈব চিহ্ন
২/ বিষ্ণুর অনুসারী বৈষ্ণব
৩/ ত্রি মূর্তি বা ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বরের অনুসারী

বৈষ্ণব ধর্মের চিহ্ন গুলোর কেন্দ্র নিম্নমুখী, ঠিক পড়ন্ত জলবিন্দুর মতো। কারণ বিষ্ণু জ্বলে অধিষ্ঠিত থাকেন। শৈব বা শিবের অনুসারীদের চিহ্নের কেন্দ্রগুলো ঊর্ধ্বমুখী কারণ শিব অগ্নিময় এবং আগুন উর্ধে যায়।
আমরা যদি বৈষ্ণব চিহ্ন গুলোকে আলাদা করে দেখি তাহলে দেখবো যে সম্প্রদায়ের একটা মুল চিহ্ন আছে আবার সেই সম্প্রদায়ের মুল চিহ্নকে কিছুটা পরিবর্তিত করে বিভিন্ন পরিবারের চিহ্ন তৈরি হয়েছে। নিচে দেখুন মুল সম্প্রদায় গৌড়ীয় আবার পরিবার নিত্যানন্দ, অদ্বৈতাচার্য, নরোত্তম ঠাকুর ইত্যাদি।

এবার হয়তো মাথার চিহ্ন দেখে অনেকেই বলতে পারবেন যে এই বৈষ্ণব গৌড়ীয় এবং নিত্যানন্দ পরিবারের মানুষ।
কপালের মধ্যস্থানে চিহ্ন দেয়া হয় কারণ ওটাই হিন্দু ধর্মমতে তৃতীয় নয়নের স্থান। তৃতীয় নয়ন সেটাই যা আসলে জ্ঞানচক্ষু। তাই জ্ঞানচক্ষুর স্থানে সে তাঁর আরাধ্যর প্রতীকী চিহ্ন বসায়।
ছবিগুলো তৈরি করে দিয়েছেন আমার সহকর্মী খন্দকার আরিফুর রহমান


