ইনবক্সে পাওয়া এই স্ক্রিনশটটা নিয়ে আজকে বেশ ভাবলাম। গালাগালির অংশগুলো বাদ দিলে; একটা জিনিস তাঁরা স্বীকার করে নিয়েছে যে, আমার বিরুদ্ধে বলা বা লেখার মতো তাঁদের শিবিরে আর কেউ নেই। আপনাদের এই সৎ উপলব্ধির জন্য ধন্যবাদ। আমি বিনয়ের সাথে বলতে চাই আপনাদের হাতে বা মগজে এমন কোন সুসংহত বয়ান নেই যা আমার উত্থাপিত বয়ানগুলোকে চ্যালেইঞ্জ জানাতে পারবে। তাই গালাগালিই সার। অক্ষমের শেষ অস্ত্র গালাগালি। করতে থাকুন, আমার চামড়া যথেষ্ট মোটা আছে, অসুবিধা নাই। তবে এটায় আপনাদের শেষ রক্ষা হবেনা।
আপনারা যে এর বেশী পারবেন না সেটা আমি ভালো করে জানি কারণ এই শিবিরে তো আমি ছিলাম কিছুদিন আগেও; তাই আপনাদের সক্ষমতার, জ্ঞানের আর লেখাপড়ার দৌড় আমার জানা আছে।
এবারে আসেন কেন আপনাদের এই দুরবস্থা হল সেটা আলাপ করি।
বাংলাদেশের স্যেকুলার মহলের সব বয়ান একসময় তৈরি হইতো সিপিবির রান্নাঘরে। আর সেই কোল্ড ওয়ারের যুগ থিকাই সেসব বয়ানের প্রধান অংশ মস্কোর ক্রেমলিন থিকা সরবরাহ করা হইতো। ফলে সোভিয়েত চোখ দিয়াই, তাঁদের বৈদেশিক বিভাগের জুতায় পা গলাইয়া আমাদের স্যেকুলারদের দুনিয়াদারি দেখা চলতো। এই বাম স্যেকুলার কমিউনিস্টদের বিগেষ্ট মিসটেক হল, এরা খেয়ালই করে নাই, যে সোভিয়েত ইউনিয়ন কমিউনিস্ট রাষ্ট্র হোক আর নাই হোক শেষ বিচারে এটা একটা রাষ্ট্র। রাষ্ট্র মানেই একান্ত রাষ্ট্র; মূলত নিজের স্বার্থের রাষ্ট্র, এই একান্ত স্বার্থ এমনকি সেটা কমিউনিস্ট আইডিয়ারও উর্ধে এর স্বার্থ। সোভিয়েত রাষ্ট্রের স্বার্থ আর সারা দুনিয়ার কমিউনিস্টদের স্বার্থ এক নয়। অথচ সোভিয়েয়ত বাণী মানে তাদের রাষ্ট্র স্বার্থকেই সারা দুনিয়ার রাষ্ট্রস্বার্থ অথবা কমিউনিস্ট পার্টির স্বার্থ বলে অনুমান করে নিতে হইছে। ফলে তাঁরা ভাবছিলেন, সকালে ঘুম থিকা উইঠা আহমেদুল কবির সাহেবের ‘সংবাদ পত্রিকা’ আর সপ্তাহান্তে প্রথম আলো’র বড় ভাই ‘একতা’ পইড়া ফেলতে পারলেই… দুনিয়ার সমাজ “বিপ্লবের” সর্বশেষ হালচাল নিয়া আপডেট থাকা যায়। এরা মনে মনে ভাব ধরতেন– তাঁরা কম্যুনিষ্ট আন্দোলনের বিপ্লবী রাজনীতি করতেছেন। করছেন ঘোড়ার ডিম। বিপ্লবী রাজনীতি করার হিম্মত আপনাগো কখনোই ছিলনা।
কিন্তু এখনকার বাস্তবতা হইলো– সেই সব দালালি আর ভাঁড়ের ভুমিকা নেওনের দিন শেষ হইছে। সেই পুরানা কম্যুনিষ্ট জমানা আর নাই… সোভিয়েতের পতন হইছে প্রায় ২৫ বছর আগে। কিন্তু দুনিয়া দেখার সেই সোভিয়েত চশমা তাঁরা এখনও পাল্টাইতে পারে নাই। সোভিয়েত রাষ্ট্র ভাইঙ্গা টুকরা হয়া গেলে কী হবে– সেই পুরানা চশমা আমরা ছাড়তে পারি নাই, কারণ আমরা ‘প্রগতির” দালালি ছাড়া অন্য কিছু তো আর শিখি নাই। আমরা সবাই জানি– দুই পরাশক্তির প্রতিযোগিতামুলক সেই কোল্ডওয়ার যুগের বাস্তবতা আর এখন বিরাজ করে না, অথচ কম্যুনিষ্টদের সেই পুরানা দেখার ভঙ্গি দিয়াই আমরা এখনও কাজ চালাইতে চাইতেছি। সেই দুনিয়া আর নাই। নয়া জামানার সাথে বুঝাপড়া কীভাবে হইবে সেই হিম্মত গইড়্যা ওঠে নাই। তাই সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাইঙ্গা যাওয়ার পরে থাম ছাড়া বিল্ডিঙ্গের মতো সব ঝপ্পাস কইরা পড়ছে। রান্না কইরা দেওয়ানের যেহেতু লোক নাই তাই তাঁরা মগজের দারুণ অপুষ্টিতে ভুগতেছেন। এই দায় আপনাদের একান্ত নিজের। অন্য কারো দায় নাই।
আমি যা বলতে চাই তা অনেকবার স্পষ্ট করছি। কিন্তু এই বেকুবের দল এতোই বেকুব যে বাংলা ভাষায় লেখাও বুঝতে চায়না। ওই যে কইলাম মগজের অপুষ্টি।
আমি বামেদের কইছি আপনাদের রাজনীতি ভুল। যে ভুল রাজনীতি করছেন এইটা ঠিক করেন, যা করতেছেন এইটারে বাম রাজনীতি বলেনা। স্যেকুলারদের বলছি আপনারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নাম দিয়া একটা ফ্যাসিস্ট রেজিমের পক্ষে দাড়াইছেন; নিজেরে তথাকথিত স্যেকুলার পরিচয় দিয়া ইসলাম বিদ্বেষের চর্চা করতেছেন এইটা ঠিক কাজ না। হিন্দুদের বলছি আপনি সংখ্যালঘু পরিচয় না নিয়া নাগরিক পরিচয়ে রাষ্ট্রে আপনার হিস্যা দাবী করেন। আপনার দুর্ভাগ্যের জন্য মুসলমানদের দায়ী না কইর্যা রাষ্ট্র গঠনের সমস্যার দিকে চোখ ফেরান, কারণ আপনার সমস্যা একটা নাগরিক অধিকারের রাষ্ট্রের সমস্যা। আর বলছি বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির কবলে পইড়েন না। সবাইকে বলছি ভারতের আগ্রাসী আঞ্চলিক রাজনীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ান। শেষে বলছি আসেন এমন একটা রিপাবলিক গড়ি যেখানে আমরা সবাই কথা বলতে পারবো নির্ভয়ে, সবার কথা শোনা হবে, সবাই বলতে পারবে কাউকে তার ভিন্নমতের জন্য দমন করা হবেনা পাকিস্তানে চলে যেতে বলা হবেনা। ওহে স্যেকুলার সেই রাষ্ট্রে আপনিও জায়গা পাবেন সন্মানের সঙ্গে। সেই রাষ্ট্রে আপনার ভোট আর কেউ দিয়ে দেবে না, আপনি আপনার নেতা নির্বাচন করতে পারবেন নির্ভয়ে, চাইলে তাঁকে বদলাতে পারবেন। কোন “আদর্শ” বাস্তবায়নের দায় থাকবে না আপনার। আপনার লক্ষ্য থাকবে একটা মর্যাদাশিল রাষ্ট্র তৈরি করা, একটা উন্নত জনগোষ্ঠী তৈরি করা। সেখানে ধর্মবাদীরাও কথা বলবে, তাঁদের পোশাক আর জিবনাচারের জন্য কেউ তাঁদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবেনা। ইংল্যান্ডে তো এই রাষ্ট্রই দেখেন। ইসলামপন্থীরা শরিয়া আইন চাইয়া মিছিল করে তার পাশে নাস্তিকেরা গলা ফাটায়ে তার দাবী তোলে কিন্তু কেউ কাউরে নিশ্চিহ্ন করার জন্য ঝাপায়ে পড়েনা। যতক্ষণ আপনি শান্তিপুর্নভাবে আপনার কথা বলতেছেন ততক্ষন কোন অসুবিধা নাই। ধর্মবাদীরা কী বলবেন সেইটা উনারা জানেন কিন্তু উনাদের কথা তো বলতে দিতে হবে।
আমি এই কথার বাইরে আর কী লিখি কবে দেখান তো? হাজারো খুজলেও পাইবেন না।
কিন্তু এই আপনারা স্যেকুলারেরা আমারে সাম্প্রদায়িক, জঙ্গিবাদি এমনকি মডারেইট মুসলমানের পীর বানাইতেছেন? এইটা হইতেছে আপনাদের “মুসলমান ঘৃণা চর্চা”। এইটা শিখছেন আপনি জমিদারি হারানো হিন্দু জমিদারগো থিকা। এইটা থেকে বাইর হইয়া আসেন। কামে দিব। আপনি এরে পাকিস্তান ওরে তুরস্কে পাঠাইয়া দিয়া, যেই এক্সক্লুসিভ রাষ্ট্র বানাইতে চান তাই সেকারণেই আপনি সবসময় ভয়ে থাকেন এই বুঝি আপনার তালুকদারি চলে গেলে না জানি কী হয়। আপনার লগেও আমি মর্যাদার সাথে ডিল করার পক্ষপাতি। এই যে ভয় আপনার মনের। মনের ভয়ে আপনারে বাঘে খাইতেছে তাই এতো উল্টাপালটা বকতেছেন। ম্যালা হইছে এইবার থামেন। আসেন এমন একটা রাষ্ট্র গইড়্যা তুলি যেইখানে আমি আপনি বিপরীত চিন্তার লোক হইলেও পাশাপাশি থাকতে পারি।
আছে সাহস? হিম্মত? থাকলে আগে আগে বাড়েন। আমিও হাত বাড়ায়ে দিব। আর মুসলমান ঘৃণা চর্চার শিবসেনার রাজনীতি করতে চাইলে ফুটেন!
লেখাটির ফেইসবুক ভার্সন পড়তে চাইলে এইখানে ক্লিক করুন



