ইতিহাস পড়তে গিয়ে মাঝে মাঝে এই সিপিবি ওয়ালাদের কাণ্ডকীর্তি দেখি আর নিজেই লজ্জা পাই। ভাসানির হক কথা পড়তে গিয়ে এইরকম একটা ঘটনা পেলাম। হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে গেল। ঘটনাটা এইঃ
১৯৭২ সালের আগস্ট মাসে মনি সিংহ সোভিয়েত ইউনিয়নে যান। ঠিক একই সময়ে আমেরিকার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য এঞ্জেলা ডেভিস সোভিয়েত পার্টির আমন্ত্রণে সোভিয়েত ইউনিয়নে যান। এঞ্জেলা ডেভিস শুধু কমিউনিস্ট নেত্রীই ছিলেন না, তিনি একজন মারকুটে কৃষ্ণাঙ্গ নেতা ছিলেন, একজন একাডেমিশিয়ান ছিলেন, ষাটের দশকের উজ্জ্বল বাম নেতা ছিলেন। মনি সিংহ এর তুলনায় সেইসময় নেহাতই বাচ্চা মেয়ে ছিলেন এঞ্জেলা। সোভিয়েত ইউনিয়ন এই নেত্রিকে পেয়ে এক তুমুল উচ্ছ্বাস দেখায়। নানা পলিটিক্যাল প্রোগ্রামের পাশাপাশি মস্কো ষ্টেট ইউনিভার্সিটি তাঁকে অনারারি ডক্টরেট দেয়। এঞ্জেলা ডেভিস এখনো বেঁচে আছেন।
এই দেখে আমাদের মনি সিংহ খুব দুঃখ পান। তার এই দুঃখ সম্ভবত সোভিয়েত পার্টির কমরেডরা বুঝতে পারেন। আফটার অল তাঁরা একটা পরাশক্তি। আর বিপ্লব তো একটা করেছে। এই বাংলাদেশী সিপিবি মার্কা কমিউনিস্টদের চাইতে ঘটে ওদের ম্যালা বেশী বুদ্ধি। তো উনারা মনি সিংহকে একটা উদ্যানে নিয়ে যান। এর পরের অংশটুকু হক কথা থেকেই লিখছি।
“বাংলাদেশের মহা কমিউনিস্ট মনি সিং তার সাম্প্রতিক রাশিয়া সফরকালে একটি উপাধি পেয়েছেন। উপাধিটি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে নয়, ডক্টরেট নয়। রাশিয়ার এক অখ্যাত উদ্যানে গমন করলে সেখানকার উদ্যান কর্মীরা বাংলাদেশের এই নিঃসঙ্গ রুশপন্থী কমিউনিস্টকে “অনারারি উদ্যানবিদ” খেতাব দেন।কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা রাজনীতি প্রশিক্ষণের কোন শিক্ষালয় মনি সিং এর সফরকে কোন আমলেই আনেনি।”
এর পরের ঘটনা আরো মজাদার। তিনি ওই উদ্যান থেকে বলে কয়ে একটা গাছের কলম জোগাড় করেন। ওই কলম নিয়ে তিনি দেশে আসেন। মনি সিংহ ফিরে এলে সিপিবি সমর্থক সকল স্যেকুলারপন্থী খবরের কাগজে ফলাও করে খবর ছাপা হয়।
“সোভিয়েত রাশিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমানের জন্য একটি বিচিত্র ধরণের গাছের কলম পাঠিয়েছে উপহার হিসেবে। বহু রকমের ফল-ফুল হয় এ গাছে-এ গাছের নাম মৈত্রী বৃক্ষ।”
এই খবর বাংলাদেশের রুশ দুতাবাসের নজরে আসে। রুশ দুতাবাসের তো মাথায় হাত। আরে এই বেকুবগুলা করছে কী? সাথে সাথে এই বেকুব সিপিবি নেতাদের টেলিফোন করেন দুতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি। তিনি বলেন, এটা কী করেছেন? শেখ মুজিব আমাদের কাছে এখনো গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তি। হ্যাঁ আপনাদের চাইতেও। আপনাদের দিয়ে উপহার পাঠাবে কেন রুশ গবর্মেন্ট। পত্রিকায় প্রতিবাদ পাঠান শিগগিরই। আজকেই।
মনি সিংহ পত্রিকাতে সংশোধনী পাঠান। সেখানে লেখেন উদ্যান সফর করতে গিয়ে একটা গাছ ভালো লাগায় সেটা ভালবাসার মানুষ বঙ্গবন্ধুকে দেবার ইচ্ছা হয়। এই গাছ পেলে বঙ্গবন্ধু খুশী হবেন এটা ভেবে, উদ্যানের কর্মীদের বলেন, একটা কলম দেবে ভাই। একটা কলম যদি দাও তাহলে একজনকে দিতাম। উদ্যান কর্মীরা বাধ সাধলোনা। মনি সিংহ নিজের হাতেই কলম বাঁধেন। পরে ফিরে আসার সময় কেটে আনেন সেই কলম। এই কলম বাধার কৌশলে প্রীত হয়ে উদ্যান কর্মীরা উনাকে সেই কথিত খেতাব দিয়েছিল। তিনি স্বীকার করেন রাশিয়ার সরকার বা কোন সংস্থা এটা পাঠায়নি, তিনি নিজে চেয়ে এনেছেন বঙ্গবন্ধুকে দেয়ার জন্য।
আপনার অবাক লাগছেনা এদের বালকসুলভ আচরণে? স্বাধীনতার অষ্টম মাসে উনি সোভিয়েত রাশিয়া নামের একটি মুক্তিযুদ্ধের মিত্র রাষ্ট্রে গিয়ে এই কাজ করে এসেছিলেন? তাজ্জব কি বাত। হা হা হা হা। এরাই নিজেদের বাংলাদেশের বেশী রাজনীতি বুঝা মানুষ বলে দাবী করে, অন্যদের মুর্খ বলে, অথচ নিজেরাই বার্ধক্যে পৌছেও চিন্তার জগতে সেই অকাল আর অনন্ত শৈশবে আঁটকে আছে। আহারে আহারে বাছা আমার!!


