এই প্রশ্ন শুনে নাক শিটকাবেন না প্লিজ। এই প্রশ্ন আমার নয় এই প্রশ্ন ষাটের দশকেই উঠেছে একাডেমিক ওয়ার্ল্ডে। বিজ্ঞানের দর্শন নামে আলাদা আলোচনা শুরু হওয়ার আগে বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞান বিষয়টা সম্পর্কে সামান্যই ধারণা ছিল। এই পর্যন্ত পড়ে অনেকেই আঁতকে উঠতে পারেন। আঁতকে উঠার কারণ নাই; আপনি বিজ্ঞানের দর্শন নিয়ে যে কোন বইয়ের প্রারম্ভিক আলাপেই এই ধরণের বক্তব্য দেখতে পাবেন।
বিজ্ঞানীদের যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি শেখানো হয় এবং তাঁরা যা বিশ্বাস করে তা নিয়ে তাঁদের এক ধরণের রোম্যান্টিক ধারণা আছে। তাঁরা মনে করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ম্যাজিকের মতো, নিরপেক্ষ, ভ্যালু ফ্রি সার্বজনীন সত্য তৈরি করে।
তাঁরা মনে করে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে তাঁরা এক ধরণের স্বায়ত্বশাসিত পরিবেশে কাজ করেন। কিন্তু আদতে রাষ্ট্র নয় বিজ্ঞান গবেষণার অর্থায়ন আসে বড় করপোরেশন, ফাউন্ডেশন থেকে এবং বিশেষ বিশেষ কায়েমী স্বার্থের রিসার্চ এজেন্ডাই বিজ্ঞানীরা মুলত বাস্তবায়ন করে। তাই মোটেই তাঁরা কোন স্বায়ত্বশাসিত পরিবেশে কাজ করেন না।
তাঁরা মনে করে বিজ্ঞানের একমাত্র কর্তব্য হচ্ছে মানুষের জ্ঞানকে অগ্রসর করে নেয়া। কিন্তু আদতে বিজ্ঞান গবেষণার মুল লক্ষ্য থাকে কীভাবে বড় কর্পোরেশনগুলো আরো বেশী মুনাফা করতে পারে সেটার উপায় খুঁজে বের করা এবং মিলিটারি স্বার্থ হাসিল হয় এমন গবেষণাই করা। তবে মানুষের স্বার্থ নিয়ে তততুকুই গবেষণা হয় যা রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষা করা সম্ভব হয়না।
তাঁরা বিশ্বাস করে বিজ্ঞান নিজেই নিজেকে চালনা করবে; নিজের লক্ষ্য নিজেই নির্ধারন করবে। তার গবেষণার বিষয় থাকবে অল্প কিছু মানুষের কাছে প্রকাশিত এবং তা একমাত্র বিজ্ঞানের কাছেই দায়বদ্ধ, কোন সামাজিক সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে তার কোন মাথা ব্যাথা থাকবেনা এবং অবশ্যই সকল গবেষণা পাবলিক মানি দিয়ে অর্থায়িত হবে। কিন্তু গণতন্ত্রতো এভাবে কাজ করেনা। সব কিছুকেই পাবলিক স্ক্রুটিনির অধীনে আনতে হবে। সাধারণ মানুষ তার পর্যালোচনা করেবে।
তাঁরা এটা ভুলভাবে মনে করেছে, যদি সাধারন মানুষ বিজ্ঞানের টেকনিক্যাল জ্ঞান নিতে যায় তবে তাদেরকে বিজ্ঞানীদের গালভরা শব্দভাণ্ডার আত্মস্থ করতে হবে এবং বিজ্ঞানীরা পরোক্ষভাবে যা বলেন তা মেনে নিতে হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ সাধারনত বিজ্ঞান নিয়ে যা জানতে চায় তা হচ্ছে গবেষণার এথিক্স, নীতি, ঝুকি এবং নিরাপত্তা এবং সেই সমস্ত বিষয়গুলো যা নিয়ে বিজ্ঞানীরা সবচেয়ে কম জানে।
এভাবেই ৬০ এর দশকে নতুন বিষয় তৈরি হয়েছে সাইন্স স্টাডিজ। এই সাইন্স স্টাডিজ সমাজ বিজ্ঞানের বিষয় যা বিজ্ঞানের গবেষণার বিষয়গুলোকে গণ পর্যালোচনার অধীনে নিয়ে আসে।
বিজ্ঞানের দর্শন নিয়ে কিছু সাধারণ আলোচনা শুরু করবো। যদি আপনারা আগ্রহ নিয়ে সাথে থাকেন।



One Response
আগ্রহের শেষ নাই স্যার। আমি প্রতীক্ষায় আছি?