বিবর্তনের তত্ত্ব ডারউইনে এসে সংগঠিত রূপ পেয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকেই ইউরোপের চিন্তায় বিবর্তনের ভাবনা দানা বাধছিল। বানর থেকে মানুষের উৎপত্তির সম্ভাবনার কথা প্রথম বলেছিলেন কান্ট। গ্যেটে লিখেছিলেন উদ্ভিদের রূপান্তরের ইতিবৃত্ত। এরাসমুস ডারউইন (বিবর্তনবাদের ডারউইন নন, তিনি একজন চিকিৎসক ছিলেন) এবং লামার্ক বলেছিলেন ব্যবহার ও অব্যবহারের জন্য সরল রূপ থেকে জটিল রুপে প্রজাতির বিবর্তনের মতবাদ। ১৮৩০ সালে কুভিয়ের বিরুদ্ধে হিয়েলার বিবর্তনের উপরে একটা নামকরা বিতর্কে লিপ্ত হয়ে জয়ী হন। ইউরোপকে ভীষণ নাড়া দেয় এই বিতর্ক। হার্বার্ট স্পেন্সার দ্য ডেভেলপমেন্ট হাইপোথিসিস এবং প্রিন্সিপলস অব সাইকোলজিতে বিবর্তনের ধারনার প্রস্তাব করেন।
সবশেষে ১৮৫৯ সালে পুরনো দুনিয়াকে খান খান করে দিয়ে প্রকাশিত হয় অরিজিন অব স্পিসিস। বিবর্তন সম্পর্কে আর ভাসাভাসা মতবাদ নয়, প্রথম প্রামাণিক মতবাদ। দর্শনের আলোচনায় ডারউইননের মতবাদকে প্রামাণিক মতবাদ বলা হয়েছে। বিবর্তনের ধারণা অবশ্য পরে আরো অগ্রসর হয়েছে। তবে সাধারন ধারণা এই যে, বানর থেকে মানুষের বিবর্তন হয়েছে এটাই ডারউইনের মতবাদ। এইটা ভুল ধারণা, ডারউইন এই কথা কোথাও বলেন নাই। অথচ ডারউইনের নামে এটাই বিশ্বাস করে এসেছে পৃথিবীর বিশাল এক জনগোষ্ঠী।
সবকিছুর মেইড ইজি করতে গেলে আর পরের মুখে ঝাল খেতে গেলে এই ঝামেলা হবেই।
লেখাটির ফেইসবুক ভার্সন পড়তে চাইলে এইখানে ক্লিক করুন


