এটা ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পোস্টার। নেহেরুর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল স্যেকুলার ভারত গড়ার। কিন্তু নেহেরু তাঁর জীবদ্দশায় ভারতের সংবিধানে স্যেকুলারিজম শব্দটা যোগ করেননি। ভারতের সংবিধানে স্যেকুলারিজম যুক্ত হয়েছে ১৯৭৬ এ।
অবাক বিষয় নয় কি? ভারতের সংবিধানে স্যেকুলারিজম যেই ফর্মে ঢুকেছে সেটার পর্যালোচনা করলে এটাই বেরিয়ে আসে; বাংলাদেশের জন্ম ভারতীয় মানসে কিছু পরিবর্তন করেছিল। আজন্ম শত্রু পাকিস্তানের বুক চিরে যে নতুন বাংলাদেশের রক্তাক্ত জন্ম হল সেই বাংলাদেশের মুসলমানেরাই তো পাকিস্তান আন্দোলনের অগ্রনী ছিল। এই পরিবর্তিত শত্রু (!)কে কী নামে ডাকলে স্বস্তিকর হয় ভারতের জন্য? আমার ধারণা বাংলাদেশের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া স্যেকুলারিজম সেই স্বস্তিকর ডাকনাম যা বাংলাদেশের মুসলমান পরিচয়কে তাঁদের কাছে মৃদু করে।
নেহেরু নিজেকে প্রকাশ্যে ধর্মে অবিশ্বাসী বলতেন। কিন্তু আশীষ নন্দী The Romance of the State. And the Fate of Dissent in the Tropics এ জানাচ্ছেন নেহেরু ছিলেন জ্যোতিষে বিশ্বাসী এবং ব্যক্তিগত জীবনে গোপনাচারী হিন্দু; বামপন্থি নেতাজী সুভাষ বসু ছিলেন এক গীতাপ্রাণ গুপ্ত সন্ন্যাসী; এবং ধর্ম নিরপেক্ষ ভারতীয় নেশন স্টেটের প্রকাশ্য পূজারিণী এবং প্রকাশ্যে ধর্মে অবিশ্বাসী ইন্দিরা গান্ধি যার হাত ধরেই ধর্ম নিরপেক্ষতা রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ভারতের সংবিধানে ঢুকেছে; তিনি হোম-যজ্ঞ বা তীর্থ যাত্রায় অংশ না নিয়ে থাকতে পারতেন না।
ভারতের স্যেকুলারিজমের ধারণা তাই মুসলমান পরিচয়ের বিপরীতে দাঁড়ানো একটা রাজনৈতিক প্রপঞ্চ যার সাথে ইউরোপের এনলাইটেনমেন্টের কোন যোগ নাই।


