তাঁদের পরাজয় গাঁথা রচিত হয়ে গেছে !

বাংলাদেশের স্যেকুলারেরা বুঝে গেছে তাঁদের পরাজয় গাঁথা রচিত হয়ে গেছে। তাঁরা বুঝে গেছে যাদের নিজ স্যেকুলার শক্তির রক্ষক ভেবে এতোদিন ফুল চন্দন দিয়ে পুজা করে এসেছে তাঁরা মুহুর্তের মধ্যে তাঁদের চোখ উল্টিয়ে দিয়েছে। দেশের বাইরের শক্তিটাও চোখ উল্টাতে দেরি করবে না। তাই আজ স্যেকুলার শিবিরে মাতম।

সংখ্যায় অতি নগন্য হওয়া সত্ত্বেও, মগজে অল্প বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে স্যেকুলারেরা এতদিন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে রাজত্ব করে গেল সেটার সুলুকসন্ধান ভবিষ্যতের জন্য তোলা থাক।

যদি এখন স্যেকুলারদের হুশ হয়, তো ভালো। সবার জন্যই ভালো। আর হুশ যদি না হয় তাহলে আর কী করা? বাংলাদেশের মানুষ তাঁদের জানাজা পড়িয়ে দেবে।

স্যেকুলারদের ঝাড়ে বংশে ধরাশায়ী করিয়ে দেয়ার কাজটা খুব সহজ ছিলনা। এতোদিন ধরে যে মনোকাঠামো তৈরি করে রেখেছে স্যেকুলার সমাজ তাকে নিরন্তর আঘাত করে ভেঙে দেয়াটা বাস্তবিকই কঠিন। এটা নিশ্চয় অনেকেই স্বীকার করবেন যে, এই বিজয়ের পিছনে একসময়ের বাম ব্যাকগ্রাউন্ডের কিছু মানুষের একরোখা লড়াইয়ের কিছু মুল্য আছে। গালাগালির কথা বাদই দিলাম; একসময়ের বন্ধুরা শত্রু হয়ে গেছে; সামাজিকভাবে একঘরে করে দেয়ার চেষ্টা করেছে; ব্যক্তিগত কুৎসা রটিয়েছে; অন্তত আমার ক্ষেত্রে এটা তো হয়েছেই। তাই অন্তত আমার ধারণা ছিল এই কাজে আরো অনেক সময় লেগে যাবে। সেই সময়টা লাগেনি, শুকরিয়া।

আমরা কাজটা তো আর এমনি এমনি করিনি। কাজের একটা উদ্দেশ্য ছিল। এই স্যেকুলারদের পরাস্ত না করতে পারলে ভবিষ্যতের রিপাবলিক তৈরির কাজটা করা সম্ভব হতোনা। মুক্তিযুদ্ধের পরে যেই রাষ্ট্র আমাদের গড়ার কথা ছিল, যেই রাষ্ট্র আমাদের গড়তে দেয়া হয় নাই, সেই সাম্য, মানবসত্তার মর্যাদা আর ইনসাফের একটা ইনক্লুসিভ রাষ্ট্র এখন আমাদের গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতের সেই রিপাবলিকের রূপকল্প আমাদের এখনই তৈরি করতে হবে। ঠিকঠাক রাষ্ট্র গড়তে না পারার দুর্বলতা আর দেখানো সম্ভব নয়। তাই আমাদের এখনকার কাজ আরো জটিল।

এই রিপাবলিক গড়ার প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে সবাইকে স্পেইস দেয়া যাবে। যে আমার মতো নয়, যে আমার মতের ১৮০ ডিগ্রী উল্টোদিকে তাকে কীভাবে একোমোডেইট করা হবে, তাঁর কণ্ঠস্বর কীভাবে শোনা যাবে? সবার কথা শুনতে হবে। সবাইকে বলতে দিতে হবে। কাউকেই কায়দায় পেয়ে না-শোনা ফেলে রাখা যাবে না। এর তরিকা বের করা সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ কাজ হয়ে উঠবে। এই কাজে সবাইকে ভাবতে হবে। সবাই চিন্তা করতে সক্ষম। চিন্তা শুধু চিন্তকের বা একাডেমিশিয়ানদের কাজ নয়। আর, এই কাজটা এতো গুরুত্বপুর্ণ, যে সো কল্ড চিন্তকেরা, বুদ্ধিজীবীরা এর ভার নিতে অক্ষম।

মুল প্রশ্ন যে আপনার মতো না তাকে নিয়েও আপনাকে রাষ্ট্র গড়তে হবে। তাই তাকে কোথায় কীভাবে রাখবেন এটা বলতে পারতে হবে। এই কথা সবাই যদি বলতে পারি একটা কমন জায়গায় দাঁড়িয়ে; তাহলে রূপকল্পের কাজটা অনেক দূর আগিয়ে যাবে।

আসুন এবার ভাবতে শুরু করি। অন্তত আলাপটা শুরু করি। আপনার ভাবনার কথাটা বলবেন কী?

লেখাটির ফেইসবুক ভার্সন পড়তে চাইলে এইখানে ক্লিক করুন

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Feeling social? comment with facebook here!

Subscribe to
Newsletter