তরুণ সম্প্রদায় কেন ধর্মের দিকে ঝুকে পড়েছে?

নাস্তিক্যবাদিরা যাই প্রচার করুক না কেন; শুধু বাংলাদেশেই নয় সারা পৃথিবীতেই বিশেষ করে তরুণ সম্প্রদায় ধর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এটা স্ষ্টই বুঝা যায় ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধি দেখে, ধর্মীয় পরিচয় মুলক পোশাক পরিধান ও ধর্মীয় চিহ্ন ব্যবহারের বৃদ্ধি দেখে। এই ফেনমেননকে বাংলাদেশের স্যেকুলাররা ব্যাখ্যা করতে পারেনা। তাঁরা যেহেতু মনে করেন ধর্ম মানেই প্রতিক্রিয়াশিলতা তাই তাঁদের ব্যাখ্যা গিয়ে দাড়ায় এমন জায়গায় যে এই তরুণেরা প্রতিক্রিয়াশিলতার দিকে ঝুঁকেছে। এই ধারার সামাজিক ও নৃতাত্ত্বিক কারণ অনুসন্ধানের বদলে নিরেট রাজনৈতিক ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে এটাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। বাংলাদেশের জন্য এই বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যা হয়েছে আরো জটিল। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান ধর্মকে ব্যবহার করেছিল তাই ধর্মের উত্থানকে পাকিস্তানি ভাবাদর্শের উত্থান ভেবে মারাত্মক ভুল বয়ানের জন্ম দেন তাঁরা। হান্টিংটনের ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজনে এই ধর্মীয় ভাবের উত্থানের পিছনে আধুনিকতাকেই প্রধান এবং একমাত্র কারণ বলে তিনি দাবী করেছেন। আসুন দেখি তিনি কী লিখেছেন?

“The most obvious, most salient, and most powerful cause of the global religious resurgence is precisely what was supposed to cause the death of religion: the processes of social, economic, and cultural modernization that swept across the world in the second half of the twentieth century. Longstanding sources of identity and systems of authority are disrupted. People move from the countryside into the city, become separated from their roots, and take new jobs or no job. They interact with large numbers of strangers and are exposed to new sets of relationships. They need new sources of identity, new forms of stable community, and new sets of moral precepts to provide them with a sense of meaning and purpose. Religion, both mainstream and fundamentalist, meets these needs.

People do not live by reason alone. They cannot calculate and act rationally in pursuit of their self-interest until they define their self. Interest politics presupposes identity. In times of rapid social change established identities dissolve, the self must be redefined, and new identities created. For people facing the need to determine: Who am I? Where do I belong? Religion provides compelling answers, and religious groups provide small social communities to replace those lost through urbanization. All religions, as Hassan al-Turabi said, furnish “people with a sense of identity and a direction in life.” In this process, people rediscover or create new historical identities.”

“বৈশ্বিক ধর্মীয় পুনর্জাগরনের সবচেয়ে প্রধান, সহজ এবং শক্তিশালী কারণ নির্ভুলভাবে বলা যায়, আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া। সামাজিক অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া ধর্মকে বাদ দিয়ে বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে সমগ্র দুনিয়াকে ভাসিয়ে দেয়। আধুনিকায়ন দীর্ঘকালের পরিচয়ের উৎস এবং কর্তৃত্বের প্রক্রিয়া পদ্ধতিকে তছনছ করে। আধুনিকায়নের সুত্র ধরে মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে ভিড় করে, শিকড় ছিন্ন হয়, নতুন কাজ জুটায় বা বেকার থাকে, বিপুল সংখ্যক অপরিচিতের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে এবং নতুন নতুন সম্পর্কের সাথে পরিচিত হয়। তাঁদের জীবনের অর্থময়তা ও উদ্দেশ্য বোধ জাগাতে দরকার হয় নতুন পরিচয়ের উৎস, স্থিতিশীল কমিউনিটি, নীতি – নৈতিকতা ও অনুশাসন। একমাত্র ধর্মই-মুল ও মৌলবাদী ধারা-এসব চাহিদা মেটায়।

মানুষ কেবল যুক্তি দিয়ে বাঁচেনা। ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে চিনতে না পারে ততক্ষন সে ঠিকভাবে হিসাব করতে পারেনা এবং নিজের স্বার্থকেন্দ্রিক কর্মও যৌক্তিক ভাবে করতে পারেনা। কখনো কখনো সমাজের দ্রুত পরিবর্তনের সময় দীর্ঘকালের প্রতিষ্ঠিত পরিচয়ও হারিয়ে যায়, তখন নতুন করে নিজের পরিচয় তৈরি করে নিতে হয়। আমি কে, কোথায়, কার জন্য এলাম? মানুষকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে হয়। একমাত্র ধর্মই এগুলোর উত্তর দেয়। ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোই এদের জন্য একটি ছোটোখাটো সমাজ নির্মাণ করে দেয় যারা নগরায়নের ভিড়ে এতদিন নিজেদের হারিয়ে ফেলেছিল। হাসান আল তুরাবি বলেন “সব ধর্মই মানুষকে আত্মপরিচয়ের বোধ এবং জীবনের দিক নির্দেশনার পরিচয় দেয়”। এই প্রক্রিয়ায় মানুষ নিজেকে পুনরায় আবিষ্কার করে বা নতুন ঐতিহাসিক পরিচয় সৃষ্টি করে।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Feeling social? comment with facebook here!

Subscribe to
Newsletter