অপটিক্সের বিজ্ঞান কয়েকজন আরব বিজ্ঞানীদের কাছে ঋণী। এই আরব বিজ্ঞানীদের বইগুলি রচিত হয়েছিল আব্বাসিয়া আমলে। বাগদাদের ইবনে সাহাল প্রিজম আর কাঁচে আলোর প্রতিসরণ নিয়ে লেখেন। ১১ শতকের আরবীয় বইয়ে Kitāb al-manāzir (“Book on Direct Vision”) তা লিপিবদ্ধ হয়। এই বইটি লিখিত হয় কায়রোতে; লেখেন ও সম্পাদনা করেন ইবনে আল হাইসাম। এই বইয়ে ইবনে আল হাইসাম লেন্সের বৈশিষ্ট্য, আলোর প্রকৃতি এবং চোখের এনাটমি সম্পর্কে লেখেন। এই বইটির একটি ল্যাটিন অনুবাদ প্রকাশিত হয় প্রায় একশো বছর পরে, এই বইয়ের লেখা থেকেই অনুপ্রানিত হয়ে ইংল্যান্ডে রজার বেকন লেন্স নিয়ে পরীক্ষা নিরিক্ষা করেন। এর ফলেই তের শতাব্দীতে খুব প্রাথমিক ধরণের পড়ার চশমা আবিষ্কৃত হয় ইউরোপে। এরপরে প্রায় তিনশো বছর অপটিক্স নিয়ে গবেষণা খুব একটা এগোয়নি। ১৫৭২ সালে সুইজারল্যান্ডের বাজেলে প্রকাশিত হয় Ibn al-Haytham‟s Opticae thesaurus Alhazeni Arabis libri septem (“The Seven Books of the Arabian Alhazen‟s Treasury of Optics”). ইউরোপের জন্য ইবনে আল হাইসামের অপটিক্সের বই বস্তুতই ছিলো এক গুপ্তধন। এই বই প্রকাশের ১৮ বছরে মধ্যেই ইউরোপে আবিস্কৃত হয় মাইক্রোস্কোপ আর ৩৬ বছরের মধ্যে টেলিস্কোপ।
সুত্রঃ Lenses and Waves: Christiaan Huygens and the Mathematical Science of Optics in the Seventeenth Century (Dordrecht: Kluwer, 2004)



One Response
জানতাম না স্যার।
অনেক ধন্যবাদ