নকশালদের গুলি করে করে মেরে ফেলার কাহিনী নিয়ে মহাশ্বেতা দেবী লিখেছিলেন “হাজার চুরাশির মা”। যেখানে মৃতরা শুধুই একটা সংখ্যা। মর্গে লাশ হয়ে থাকা হাজার চুরাশি নম্বর লাশের মা হচ্ছেন এই কাহিনির শিরোনাম।
পত্রিকায় এখন ঠিক এমন সংখ্যা দেখি। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরে আরেক শহরে পরে থাকছে এই রকম সংখ্যার গুলিবিদ্ধ মরদেহ।
ঝিনাইদহের সোহানুর রহমানেরা অবশ্য শিরোনাম হয়না। শিরোনাম হয়না শ্মশানে আবিষ্কার করা শামীম হোসেনের গুলিবিদ্ধ লাশের খবর।
বরং গুলি করে করে এভাবে অসংখ্য শিবির কর্মী মেরে ফেলার খবরে বাংলাদেশের বিবেকেরা স্বস্তিতে থাকে। তাদের ধারণা এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
সে শিবির কর্মী হলেও সেই বিচারহীন খুনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যে একটা প্রগতিশীল কর্তব্য সেটা তাদের মাথায় নেই। এমনই অখাদ্য এদেশের প্রগতিশীল নামধারীরা।
এভাবে মরে তো মানুষটা, রাজনীতিটা তো মরে না বরং ওই রাজনীতি আরো শক্তিশালী হওয়ার শর্ত তৈরি হয়ে যায়।
পশ্চিমবঙ্গে নকশাল নিধন কয়েক দশক জুড়ে বাম শাসনের শর্ত তৈরি করে দিয়েছিল। ইতিহা্সের শিক্ষা এই যে, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয়না।
এই বিচারহীন হত্যার সংস্কৃতি থেকে কেউ রেহাই পাবেনা, তাই প্রত্যেক বিচারহীন মৃত্যুর প্রতিবাদ করে যাবো, তাই সোহানুরের মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাই। আর ধিক্কার জানাই ছদ্ম প্রগতিশীলদের।


