ইউরোপিয়ান নাস্তিকতার গুরু লুদভিগ ফয়েরবাখের ধর্ম ও ঈশ্বর নিয়ে ধারনা কী ছিলো?

লুদভিগ ফয়েরবাখ এই নামটার সাথে বামপন্থীরা কমবেশি পরিচিত। তিনি ছিলেন জর্মন বস্তুবাদী এবং মার্ক্সের গুরু। উনার আরো একটা উপাধি আছে সেটা হচ্ছে ফাদার অব এইথিজম বা নাস্তিক্যবাদের পিতা। বলতে দ্বিধা নেই সকল বামপন্থীর মতো আমারো নাস্তিক্যবাদের চর্চা শুরু হয়েছে ফরেরবাখ পড়ার চেষ্টা করে। সেই সময় সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ সময়ে যে উনার লেখা তেমন বুঝতে পেরেছিলাম, সেই দাবী করবো না। উনার ধর্ম বিষয়ে প্রধান বই “এসেন্স অব খ্রিসচানিটি”। সেখানে তিনি শুধু খিস্ট্র ধর্ম নয় সকল ধর্মের স্বরূপ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করেছেন।

দেখুন উনার বইয়ের শুরু করেছেন কী দিয়ে?

“Religion is the disuniting of man from himself; he sets God before him as the antithesis of himself. God is not what man is— man is not what God is. God is the infinite, man the finite being; God is perfect, man imperfect; God eternal, man temporal; God almighty, man weak; God holy, man sinful God and man are extremes: God is the absolutely positive, the sum of all realities; man the absolutely negative, comprehending all negations. But in religion man contemplates his own latent nature.”

“ধর্ম হচ্ছে মানুষের নিজের সঙ্গে নিজের বিচ্ছেদ; সে তার নিজের বিপরীতে ঈশ্বরকে বসায়। মানুষ যা ঈশ্বর তা নন, আর ঈশ্বর যা মানুষ সেটাও নয়। ঈশ্বর অসীম, মানুষ সসীম; ঈশ্বরের কোনো খুঁত নাই, কিন্তু মানুষে খুঁত আছে; ঈশ্বর কালের অতীত কিন্তু মানুষ কালের অধীন; ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, মানুষ দুর্বল; ঈশ্বর পবিত্র, মানুষ পাপী। ঈশ্বর আর মানুষে চরম ফারাক : ঈশ্বর একদমই যথার্থ, সকল ইহলৌকিক বাস্তবতার যোগফল; মানুষ একদমই নিরর্থক, নিজের অর্থহীনতা নিয়েই তার চিন্তা। কিন্তু ধর্মে মানুষ তার সুপ্ত স্বভাবেরই ধ্যান করে”।

তিনি যেটা বলতে চাইছেন; ঈশ্বর মানুষের না হয়ে ওঠা সেই পরমের সত্তার বিনির্মাণ। মানুষ ঈশ্বরের মতো নিখুঁত হয়ে উঠতে চায় কিন্তু সেটা এখনো পারেনি, তাই সে ধর্মের মধ্যে দিয়ে তার না হয়ে ওঠা সত্তার অন্বেষণ করে। মানুষের “সুপ্ত স্বভাব” মানুষের “মৌলিক প্রেষণা” বুঝতে হলে মানুষের এই ঈশ্বর চিন্তার বিনির্মাণ বুঝতে হবে। মানুষ সেই কারণেই তাঁর স্বপ্নের, কল্পনার সেই পরম সত্তাকে আগলে রাখতে চায়। ঈশ্বরের অপমানে বিক্ষুব্ধ হয়, ধর্মের অসন্মানে আহত হয়। “পরম” হয়ে উঠতে না পারার বেদনাকে যেই ধর্মের মধ্যে দিয়ে সে পূরণ করতে চায় সেই ধর্মকে রক্ষা করতে চাওয়াটা তো নিজেকেই, নিজের “দিব্য স্বভাবকে” রক্ষা করতে চাওয়া।

ফয়েরবাখ কিন্তু বলেননি ধর্ম ফালতু, ঈশ্বর নাই, ধর্ম মানে যারা তাঁরা পশ্চাৎপদ, মূর্খ, ধর্মই সব অনিষ্ঠের মুল। সেটা তিনি বলবেন না, কারণ তিনি জ্ঞান আর অজ্ঞানের তফাৎ বুঝেতেন।

ফয়েরবাখ আজকের প্রজন্মের বাংলাদেশের নাস্তিকদের পিতা নন। এমন আলোকপ্রাপ্ত মানুষ অন্ধকারের জীবদের সহ্য হবেনা। আজকের বাংলাদেশের নাস্তিকদের পিতা প্রতিক্রিয়াশীল ঘৃণাজিবী রিচার্ড ডকিন্স, সারা পৃথিবীর নাস্তিক্যবাদের ইতিহাসে যেই ধারার নাম চিরকাল নিন্দিত হবে।

 

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Feeling social? comment with facebook here!

Subscribe to
Newsletter