থেমিসের মূর্তি ভাঙা কোন প্রতিক্রিয়াশীল কাজ নয়

নকশালেরা কোলকাতায় সত্তরের দশকে বিদ্যাসাগরের মুর্তির মাথা ভেঙেছিল। এটা নিয়ে এক শ্রেণীর মানুষ খুব হা পিত্যেস করেছিল। কিন্তু যেই ছেলেটা বিদ্যাসাগরের মাথা ভেঙেছিল বিদ্যাসাগর ছিল তার জন্য অনুকরণীয় ব্যক্তি। তবুও সে মাথাটা ভেঙেছিল কেন তার প্রিয় মানুষের মুর্তির? আসলে সেতো বিদ্যাসাগরের মুর্তি ভাঙেনি, ভেঙেছে বিদ্যাসাগরের মুর্তি বানিয়ে সেটাকে সামনে রেখে চোর ডাকাত শয়তানরা যেই ক্ষমতাতন্ত্র গড়ে তুলেছে তাকে। দেখুন নারায়ণ সান্যাল কী বলেছিলেন এই ঘটনা নিয়ে।

“কলেজ স্কোয়ারে বিদ্যাসাগর-মশায়ের মর্মরমূর্তির যেদিন মুণ্ডচ্ছেদ হয় তার মাসখানেকের মধ্যে সিপিএম (এম. এল) দলের এক নেতৃত্বস্থানীয় ছাত্রনেতার সঙ্গে আমার সাক্ষাত্ হয়েছিল! ঘটনাচক্রে সে আমার নিকট আত্মীয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। কট্টর নকশাল। আমার পেচকপ্রতিম বিরস মুখখানা দেখে সে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিল, ‘বিশ্বাস কর ছোটকাকু! মূর্তিটা যে ভেঙ্গেছে তাকে আমি চিনি। গত বছর হায়ার সেকেন্ডারিতে সে বাংলায় লেটার পেয়েছে। ওর সেই বাংলা প্রশ্নপত্রে প্রবন্ধ এসেছিল তোমার প্রিয় দেশবরেণ্য নেতা। ও লিখেছিল বিদ্যাসাগরের উপর।’

আমি জানতে চেয়েছিলুম, ‘তাহলে ও বিদ্যাসাগরের মূর্তিটা ভাঙল কেন?’ ‘…বিদ্যাসাগরের মূর্তি তো সে ভাঙেনি। ভেঙেছে একটা ফেটিশ! ষড়যন্ত্রী মশাইরা যে ফেটিশের গলায় প্রতিবছর ছাব্বিশে সেপ্টেম্বর একটা করে গাঁথা ফুলের মালা দুলিয়ে দিয়ে বলেন, আগামীবার ভোটটা আমায় দেবেন কাইন্ডলি! দুঃখ কর না কাকু। সর্বহারার রাজত্ব প্রতিষ্ঠা হলে বিদ্যাসাগরের মূর্তি আবার বসাব’।”

কোটা সংস্কার আন্দোলনে যে ছেলেটা আমি রাজাকার লিখেছিল, সেও নিজেকে রাজাকার দাবী করেনি। সে নিজের শরীরে সেই ফেটিশকে ধারণ করেছিল যেই জুজুর ভয় দেখিয়ে সকল ন্যায়সঙ্গত লড়াইকে ডিলিজিটিমাইজ করেছে বর্তমান শাসক।

এই প্রতিবাদের ভাষা জাফর ইকবাল বুঝবে না। কারণ সে রাজনীতির মানুষ নয়, সে নিন্মস্তরের সরকারী দালাল।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Feeling social? comment with facebook here!

Subscribe to
Newsletter