কয়েকদিন আগে আমরা বৃটিশ শাসনে নয় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জাত জমিদারি শাসনে ছিলাম এটা বলার আমার একজন সিনিয়র ফেইসবুক বন্ধু যিনি সরকারের আমলা ছিলেন, তিনি দাবী করলেন শুধু বাঙলা নয় সারা ভারতে জমিদারি ছিল। আমি এটা বলার চেষ্টা করলাম জমিদারি আর চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জাত জমিদারি এক নয়। আর শুধু বাঙলা নয় বিহারেও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জাত জমিদারি ছিল সারা ভারতে ছিলনা। এই বন্দোবস্তের মাধ্যমেই আমাদের পুর্বপুরুষেরা জমির মালিকানা হারায়। আমার ফেবু বন্ধু ভদ্রলোক নাছোরবান্দা, তিনি তাঁর দাবী থেকে সরবেন না। আমি উনার দাবীর সপক্ষে রেফারেন্স জানতে চাইতে তিনি বললেন তাঁর মাথাই রেফারেন্স। জমিদারি সারা ভারতে থাকতেই পারে, তাঁর সাথে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কোন সম্পর্ক নাই।
যাই হোক ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে এদেশে ব্রিটিশ শাসনের সামাজিক ভিত্তি হিসেবে এক নতুন জমিদার শ্রেনির জন্ম দেয়। এই জমিদারেরা ক্লাসিক্যাল অর্থে জমিদার নয়। ভাগ্যান্বেষণে কলকাতায় উপস্থিত হওয়া পঞ্চানন বিদেশী জাহাজে মাল সরবরাহ করে যে টাকা পয়সা কামায় সেটার উপরে ভর করেই তাঁর পৌত্র প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথের পিতামহ জমিদারি কেনেন। রবীন্দ্রনাথ ক্লাসিক্যাল অর্থে ঐতিহ্যবাহী জমিদার বংশের সন্তান নন।
এই জমিদার স্রেনিই ১৮৩৮ সালে “ল্যান্ড হোল্লদার্স সোসাইটি অব ক্যালকাটা” প্রতিষ্ঠা করে। ১৮৪৩ সালে প্রতিষ্ঠা হয় “ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি”। এরপর একই ধরণের কয়েকটি সংগঠন মিলে ১৮৫১ সালে তৈরি হয় “ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন”। এই সংগঠন গুলো সবই ছিলো ইংরেজদের বশংবদ জমদারদের দ্বারা পরিচালিত সংগঠন যাদের উদ্দেশ্য ছিল অনন্তকাল ধরে ইংরেজ শাসনের পক্ষে ওকালতি করা।
সিপাহী বিদ্রোহের পরে ১৮৫৯ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন ইংল্যেন্ডের পার্লামেন্টে একটা আবেদনপত্র পাঠায়-যার মর্মার্থ ছিলঃ সারা ভারতে বঙ্গ প্রদেশের মতো চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলবত যেন করা হয়। ১৮৫৯ সালেও বঙ্গ প্রদেশ ছাড়া আর কোথাও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ছিলনা। আর কোন রেফারেন্স আছে কি? এর পরের?
তথ্যসুত্রঃ বিনয় ঘোষঃ বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা; পাঠভবন, কলিকাতা, পৃষ্ঠা ২৯৪


