Mobil uyumlu arayüzüyle bahsegel her cihazda mükemmel performans gösterir.

Bahis dünyasında istikrarın adı bahsegel olmuştur.

Kullanıcıların hızlı erişim için en çok tercih ettiği yol bahis siteleri sayfasıdır.

Adres engellemelerini aşmak için Bahsegel kritik önem taşıyor.

বই

ওয়েদার মেকার

বাংলাদেশে এক বিজ্ঞানী প্রফেসর টাবুল আবিষ্কার করে ফেলেন এমন একটা যন্ত্র যা আবহাওয়াকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। মরুভূমিতে তুষারপাত ঘটাতে পারে, খরতাপিত এলাকায় বৃষ্টি ঝরিয়ে দিতে পারে। উদ্ভাবক প্রফেসর টাবুল যন্ত্রটার নাম দেন ‘ওয়েদার মেকার’। যন্ত্রটা নিয়ে প্রফেসর টাবুল আমেরিকার এক বিজ্ঞানিক সম্মেলনে যান। সঙ্গে আছেন তার বয়স্ক পড়শি অসীম বাবু আর অসীম বাবুর কুকুর। অসীম বাবু এক মজার মানুষ। কথায় কথায় দম ফাটিয়ে হাসাতে পারেন। আমেরিকায় পৌঁছানোর পরেই ঘটতে থাকে শ্বাসরুদ্ধকর সব ঘটনা। চুরি হয়ে যায় ‘ওয়েদার মেকার’। কে চুরি করলো যন্ত্রটা? খুঁজে পাওয়া যাবে কি সেই অমূল্য যন্ত্রটা বিদেশ-বিভুঁইয়ে?

সায়েন্স ফিকশন আর গোয়েন্দা কাহিনীর অপূর্ব মিশেল। একবার পড়তে শুরু করলে শেষ না করে পাঠক উঠতে পারবেন না।

প্রকাশক: সূচিপত্র

মূল্য: 250 টাকা।

বইটা কিনতে হলে এখানে ক্লিক করুন।

 

Review by​: গৌতম রায়: প্রভাষক, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

১. বুক রিভিউ: পিনাকী ভট্টাচার্যের সায়েন্স থ্রিলার ফিকশন “ওয়েদার মেকার”

অবিনাশ বাবুর কথা কি মনে আছে আপনাদের? মনে পড়ছে না? ক্লু দিতে হবে? প্রফেসর শঙ্কু নামে কাউকে চিনেন কি? এবার নিশ্চয়ই মনে পড়েছে অবিনাশ বাবুকে! সারা দুনিয়া প্রফেসর শঙ্কুকে আদবের সঙ্গে ইজ্জত দিলেও এই একটা মানুষ ছিলেন, যিনি প্রফেসরের যাবতীয় আবিষ্কার নিয়ে মশকরা করতে পারতেন। পড়ছিলাম পিনাকী ভট্টাচার্যের বই। নাম ‘ওয়েদর মেকার’। মনে পড়লো অবিনাশ বাবুর কথা। *সায়েন্স ফিকশন বা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী পৃথিবীর সব দেশেই জনপ্রিয়। এর মধ্যেও কারো কারো লেখা একটু বেশিই জনপ্রিয়। সায়েন্স ফিকশনের মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের ধারা আছে। এই ধারাগুলো কখনো নিজস্ব গুণে জনপ্রিয় হয়, কখনো-বা লেখকের লেখনীর গুণে জনপ্রিয়তা পায়। আইজাক আসিমভের ফাউন্ডেশন সিরিজের বই, কিংবা জুল ভার্নের একের পর এক কল্পকাহিনী কিংবা আর্থার সি ক্লার্কের ২০০১- অ্যা স্পেস ওডিসি সায়েন্স ফিকশনকে ভিন্নমাত্রায় হাজির করে আমাদের সামনে। কখনো কাহিনীর আড়ালে যন্ত্রের ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড আমাদের আচ্ছন্ন করে রাখে; কখনো-বা আজ থেকে হাজার-লাখো-কোটি বছর পরের পৃথিবীর মানুষের সমাজজীবনের পরিবর্তনগুলো আমাদের সামনে নতুন নতুনভাবে হাজির হয়। সায়েন্স ফিকশন শুধু সায়েন্স নয়; সায়েন্স সেখানে অনেকটা পরিসর জুড়ে থাকলেও ফিকশনটাই মুখ্য। সুতরাং সায়েন্স ফিকশনে ফিকশনটাকে ঠিকমতো হাইলাইট না করতে পারলে সায়েন্সটাও মাঠে মারা যায়। এ ধারায় যারা জনপ্রিয় হয়েছেন, তাঁরা দুটোরই সমন্বয়ই ঘটাতে পেরেছেন; আর পেরেছেন বলেই তাঁরা এতোটা জনপ্রিয়। * ইংরেজি সাহিত্যে মেরি শেলিকে, অর্থাৎ ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের রচয়িতাকে সায়েন্স ফিকশনের উদ্ভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। কিন্তু বাংলা সাহিত্যে? বলা মুশকিল। অনেকে অবশ্য জগদানন্দ রায়কে বাংলা ভাষায় সায়েন্স ফিকশনের জনক বলে মনে করেন। তিনি ‘শুক্র ভ্রমণ’ নামে একটি সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস লিখেছিলেন। পাশাপাশি গল্পাকারে বেশ কিছু বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লিখেছেন বলে জানা যায়। কিন্তু এটাতো ১৯০০ সালের কিছু পরের কথা! এর আগে কেউ কি কিছু লিখেননি? পুরনোদের মধ্যে সত্যজিত রায় প্রফেসর শঙ্কু দিয়ে যেভাবে মাতিয়েছেন, তেমনটা কি অন্য কেউ পেরেছেন? সাম্প্রতিককালে অবশ্য অনেকেই সায়েন্স ফিকশন লিখছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদও লিখেছেন বেশ কিছু। হাসান খুরশিদ রুমীর লেখা আছে অনেক- আছে অনুবাদও। এর বাইরেও অনেকের নাম বলা যাবে- তার মানে, বাংলাদেশে এখন অনেকে সায়েন্স ফিকশন লিখছেন। এটা ভালো খবর। কিন্তু যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, এগুলোর মধ্যে কয়টা ‘মানোত্তীর্ণ’, তখন উত্তর কী হবে? সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য দীপেন ভট্টাচার্য খুব ভালো লিখছেন। তাঁর ‘দিতার ঘড়ি’ তো অনেকের ভালো লেগেছে! * পিনাকী ভট্টাচার্যের বইটি হাতে পাওয়ার পর ভাবছিলাম, তাঁর লেখা কি পড়েছি আগে? বইয়ের নাম হিসেবে ‘ওয়েদার মেকার’ অবশ্য বলে দেয় এটা সায়েন্স ফিকশন হতে পারে, তাই উল্টেপাল্টে দেখি। যদিও কোথাও লেখা নেই বা লেখক কোথাও দাবি করেননি যে এটা সায়েন্স ফিকশন। কিন্তু পড়তে পড়তে এটিকে সায়েন্স ফিকশন হিসেবেই ভাবতে হবে। তার মানে কি পিনাকী ভট্টাচার্য নামে নতুন এক লেখকের আগমন ঘটেছে সায়েন্স ফিকশন জগতে? তাহলে তো দারুণ হয়‍! যেহেতু বইটি পড়া হয়েছে, তাই একটু যদি আলোচনায় যাই- দেখি, সব মিলিয়ে কী দাঁড়ায়! লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য যদি কখনো লেখাটি পড়েন, তিনি হয়তো রাগ করতে পারেন। কিন্তু পাঠকের মতামত- সে তো সবসময়ই এক চিজ! প্রথমত, যে প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু করেছিলাম- প্রফেসর শঙ্কু এবং অবিনাশ বাবুর কথা। এই বইয়েরও প্রধান দুটো চরিত্র ওরকম- প্রফেসর টাবুল এবং অসীম বাবু। চরিত্রের বিন্যাসও মোটামুটি কাছাকাছি। প্রফেসর শঙ্কুদের ছিল একটা বেড়াল- নিউটন, আর প্রফেসর টাবুলদের আছে একটা কুকুর- কুত্তা। অনুকরণটা এতো বেশি কাছাকাছি যে, পড়তে পড়তে কিছুটা অস্বস্তি লাগে। চরিত্র চিত্রণে লেখক নতুন কিছু কি সৃষ্টি করতে পারতেন না? অসীম বাবু তো অবিনাশ বাবুর মতোই ঠাট্টা-তামাশা করেন প্রফেসরের সঙ্গে! মিলটা কিন্তু খুবই বেশি! দ্বিতীয়ত, কাহিনীটা উপস্থাপন করা হয়েছে একেবারেই সাদামাটাভাবে। আইডিয়াটা চমৎকার ছিল, দারুণভাব সেটাকে নিয়ে লেখক খেলতে পারতেন পুরো বইটা জুড়ে। যন্ত্রটি অভিনব, নামকরণটিও; কিন্তু পুরো কাহিনীতেই তেমন কোনো নতুনত্ব নেই। ফলে একটু অভিজ্ঞ পাঠক সহজেই আন্দাজ করতে পারবেন পরবর্তীকালে কী ঘটতে চলেছে। লেখক মনে হয়, খুব তাড়াহুড়া করে বইটি শেষ করে দিয়েছেন। অথচ, বুননটা জমাট করা যেত, বর্ণনাগুলো হতে পারতো বিস্তৃত। উপন্যাস তো আর শুধু মূল কথাগুলো বলে যাওয়া নয়; সেখানে থাকে কিছু শাখা-প্রশাখা, নদীর মতো, যা মূল নদীটাকেই শক্তিশালী করে তোলে। লেখক সেদিকে মনোযোগী ছিলেন না একেবারেই। তৃতীয়ত, বর্ণনাগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একঘেয়েমীপূর্ণ। একটা কি উদাহরণ দিব? “কয়েকজন ব্যস্ততার সাথে ওয়্যারলেসে কথা বলতে শুরু করলো। অসীম বাবু প্রফেসরের কাছে পৌঁছানোর সাথে সাথেই কয়েকটা পুলিশের গাড়ি সাইরেন বাজিয়ে সামনে এসে দাঁড়ালো। প্রফেসর কোনো কথা না বলে অসীম বাবুর হাত ধরে টেনে একটা গাড়িতে উঠে পড়লো। অসীম বাবুর কুত্তা প্রভুকে অনুসরণ করলো। পুলিশের গাড়ি সাইরেন বাজিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চললো”। শেষে এতো ‘লো’ কেন? তাছাড়া বইতে বিজ্ঞান-সম্পর্কিত বিশ্লেষণ রয়েছে মাত্র একটি জায়গায়, সেটি সমস্যা নয়। কিন্তু বিশ্লেষণটা খুবই কঠিন হয়ে গেছে সাধারণ পাঠকের জন্য। ‘ওয়েদার মেকার’ যন্ত্রটি কীভাবে কাজ করে, সেটি সম্ভবত আরেকটু সহজভাবে বোঝানো সম্ভব। * বইটি ছোট। মাত্র ৫৩ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে প্রথম পৃষ্ঠা শুরু হয়েছে পৃষ্ঠা ৭ থেকে। মানে, বইটি আসলে ৫৩ পৃষ্ঠার। আসলে আরো ছোট- ফন্ট সাইজ কিংবা পেজ মেকাপ ইত্যাদি বিবেচনা করলে। সেদিক দিয়ে বইটিকে আসলে একটি গল্প (বা বড় গল্প) আখ্যা দেয়াই সমীচীন। উপন্যাস হয় না বোধহয়। না, আকারের দিক বিবেচনা করে নয়; পরিসর বিবেচনা করেন। সেক্ষেত্রে লেখক একটু ভাবতে পারেন- ভবিষ্যতের জন্য এটিকে পূর্ণাঙ্গ করে দারুণ একটা উপন্যাস উপহার দিতে পারেন পাঠকদের; কিন্তু এরকম আরো কিছু বড় বড় বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লিখে এক মলাটের আওতায় এনে প্রকাশ করতে পারেন। কেন বলছি এ কথা? কারণ, সমস্ত সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও এটি হতে পারে কিশোর-কিশোরীদের জন্য দারুণ একটি বই। এই বয়সীদের কিছু কল্পনার জগত থাকে- ঠাঁসবুননে বাঁধা নয়, বরং সাবলীলভাবে বলে যাওয়া কাহিনী এদের আকৃষ্ট করে বেশি- এই গুণটি পুরোপুরিই রয়েছে বইটিতে। দারুণ হবে যদি লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য কিশোর-কিশোরীদের কথাটি মাথায় রাখেন। এদেশে সবাই লিখেন বড়দের জন্য। কেউ কেউ লিখেন শিশু সাহিত্য। কিন্তু কিশোর-কিশোরীরা কি অবহেলিত নয় এদেশে- সাহিত্যের জগতে? * বইয়ের প্রচ্ছদটি আমাকে টানেনি- কাহিনীর প্রতিফলন নেই প্রচ্ছদে। বাঁধাই কিংবা ছাপার মান কিংবা কাগজের মান ইত্যাদি আমাদের দেশের বইয়ের গড় মানের তুলনায় ভালো। দারুণ ব্যাপার যে, বইটি তিনি লিখেছেন অভ্র দিয়ে (যা দিয়ে আমিও লিখছি এই লেখাটি)। উৎসর্গও করেছেন অভ্রের মেহদীকে (উৎসর্গে অবশ্য মেহদীর নামের বানানটা ভুল এসেছে) এবং তাঁর টিমকে। এটা একটা দারুণ ব্যাপার! কেন, তা নিশ্চয়ই ইন্টারনেটে বাংলা ব্যবহারকারী কাউকে বলে দিতে হবে না। * বইটি পড়া শেষ করে উল্টেপাল্টে দেখছিলাম কোথাও লেখকের পরিচয় দেয়া আছে কিনা। নেই। দুটো বিষয় জানার ইচ্ছে ছিল- এক. লেখকের শিক্ষাগত বা পেশাগত পরিচয় ও দুই. এটি লেখকের প্রথম বই কিনা। লেখার সঙ্গে লেখককে মিলিয়ে ফেলাটা ঠিক কিনা সেই বিতর্ক অনেক পুরনো। কিন্তু পাঠকের কাছে একজন লেখকের লেখা নানাভাবে উপস্থাপিত হতে পারে; প্রত্যাশা সৃষ্টি হতে পারে লেখক সম্পর্কে জেনেই। এই যেমন ধরুন- লেখক পিনাকী যদি বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে পড়ালেখা করে থাকেন, তাহলে তাঁর প্রতি এক ধরনের প্রত্যাশা জন্মাবে; না হলে আরেক ধরনের। আচ্ছা, সেটা না হয় এখানে বলেই ফেলি। তিনি যদি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হন, তাহলে বলবো- এই বই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি; যদি না হন, তাহলে বলবো তিনি এই বইতে অনেক কিছু করেছেন যেটা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছাড়া অন্যদের করা কঠিন। সেদিক দিয়ে বইটি দারুণ! লেখকের ব্যাকগ্রাউন্ড জেনে লেখার বিচার করাটা ঠিক কিনা- সেই প্রশ্ন এখন লেখক পিনাকী আমাকে করতেই পারেন।

*বই সম্পর্কে কিছু তথ্য- বইয়ের নাম: ওয়েদার মেকার, লেখক: পিনাকী ভট্টাচার্য, পৃষ্ঠা: ৫৩, প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৩, দ্বিতীয় পরিমার্জিত সংস্করণঃ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সূচীপত্র। স্বত্ব: লেখক, প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ: রাজীব, দাম: ২৫০ টাকা। বইটি পাওয়া যাবে সূচিপত্র, বাতিঘর (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট) এবং রকমারিতেও বইটি পাওয়া যাবে।

আগেই বলেছি, ‘ওয়েদার মেকার’ যন্ত্রটি দারুণ! বইয়ের আইডিয়াটি দারুণ! কিন্তু সব মিলিয়ে বইটি দারুণ হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু আপনি যদি চান- কোনো কিশোর-কিশোরীকে বই উপহার দিবেন, তাহলে এটি আপনার সেই উপহারের তালিকায় রাখতে পারেন। ওদের ভালো লাগবে- আশা করি।

Review by​: কিবরিয়া বাপ্পি।

২. বুক রিভিউঃ ‘‘ওয়েদার মেকার’’

জনপ্রিয় লেখক Pinaki Bhattacharya দাদার লেখা মানে অসম্ভব ভালোলাগার মতো খোরাক। সম্প্রতি দাদার লেখা নতুন বই “ওয়েদার মেকার” পাওয়ার আকাংখায় ছিলাম। অবশেষে সূচিপত্রের প্রকাশক সাঈদ বারী ভাইয়ের সহায়তায় আজ দুপুরে কুরিয়ারযোগে বইটি হাতে পেলাম। অফিস টাইম ছিলো বলে বইটি আর পড়া হলো না। অফিস শেষে বাসায় এসে বইটি পড়া শুরু করে দিই।

সায়েন্স ফিকশন ও গোয়েন্দা কাহিনী মিশেল বইটি একবসাতে শেষ করে উঠলাম। বিশ্বাস করুন আমার একদম মনে হয়নি আমি টানা তিনঘন্টা বইয়ের ভেতরে ডুবে ছিলাম। বইটির পরতে পরতে ছিলো ব্যাপক হাস্যরস। ছোটবেলায় যখন মাসুদ রানার বইগুলো পড়ে যেমনটা মজা পেতাম তার থেকে অনেক বেশীগুন মজা পেয়েছি। বইটির শাব্দিক বাচনভঙ্গি মারাত্মক লেবেলের আনন্দদায়ক।

বইটির তিনটি চরিত্র ” প্রফেসর টাবুল, অসীমবাবু ও তার কুত্তা ”
তাদের নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আমার চোখে এখনো ভাসছে।
সত্যিই বইটি অনেক আনন্দদায়ক। ইশ কল্পিত সেই “ওয়েদার মেকার” মেশিনটি যদি আমি পেতাম। ????????
থাক… বইয়ের পোকাদের বলছি বইটি সংগ্রহ করুন। আমি নিশ্চিত অনেক আনন্দ পাবেন। টাকা পানিতে পরবে না এটা অন্তত বলতে পারি।
ধন্যবাদ পিনাকী দাদা আপনাকে,
ওয়েদার মেকার-২ পাওয়ার আকাংখায় থাকলাম।

Review by​: রুমি মোহাম্মদ আলী

৩. বুক রিভিউঃ ‘‘ওয়েদার মেকার’’

পিনাকী ভট্টাচার্যের নতুন বই, একটু অন্য মেজাজের, নামটাও কৌতূহলোদ্দীপক – ‘ওয়েদার মেকার’। বই প্রকাশের খবরটা দেখা মাত্র অনলাইনে প্রি-অর্ডার করে ফেললাম। দাম রাখা হয়েছে ১৭৫৳। অর্ডারের দশ দিনের মাথায় আজ বইটা হাতে পেলাম। চমৎকার প্রচ্ছদ। ভেতরের পৃষ্ঠার মান, বাধাই খুবই উন্নত। দেরী না করে পড়া শুরু করলাম। প্রচ্ছদের ছবিটি দেখে যেন ফেলুদা আর জটায়ুকে মনে পড়ছিল। পড়েতে গিয়েও সেই ছায়াই পেলাম। যেহেতু সত্যজিত রায়ের আবেশ মনে গাথাই ছিল, পড়তে পড়তে নিজের অজান্তেই যেন তুলনাটাও মনের মধ্যে এসেই গেল। বইয়ের মাঝে মাঝে পৃষ্ঠা জুড়ে ছবি যেন আরো বেশী করে সেই স্বাদের ক্ষুধা তৈরী করিয়ে দিল। গল্পের প্লট ভাল, শেষ পরিণতিটাও ভাল। শেষ পর্যন্ত কি হবে কি হবে সাসপেন্সটা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন লেখক। আসীম বাবুর নির্লিপ্ত রসবোধ হালকা হাসিয়েছে।

তবে আগেই বলেছি, মনে মনে রায় সাহেবের স্ট্যান্ডার্ড আশা করে পড়া শুরু করে ফেলেছিলাম। সেক্ষেত্রে কিছুটা হতাশ হতে হয়েছে স্থান কাল পাত্রের বর্ণনার স্বল্পতায়। বইয়ের পরিসরেও অতৃপ্তি রয়ে গেল।

কিছুটা নিজের কিশোর বয়সে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।

Review by​: রিফাত আহমেদ

৪. বুক রিভিউঃ ‘‘ওয়েদার মেকার’’

আলোচিত ও সমালোচিত ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য এবার সায়েন্স ফিকশন ও গোয়েন্দা কাহিনীর অপূর্ব মিশেলে একটা বই লিখেছেন। নাম ওয়েদার মেকার। যদিও তার আগেকার লিখার বিষয় দর্শন ও রাজনীতি হলেও এবার একটু আলাদা বিষয়ে বই লিখার জন্য প্রথমেই তাকে ধন্যবাদ দিতে চাই।

এর আগে উনার “মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম” এবং “মার্কিন ডকুমেন্টে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ৭১” পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। বই দুইটি বেশ আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। এবারের বইটি একদম এসবের বাইরে নিয়ে লিখা তাই শুরু থেকেই বেশ আগ্রহ পাচ্ছিলাম।

প্লট ????
বাংলাদেশের একজন বিজ্ঞানী টাবুল অদ্ভুত একটা যন্ত্র আবিষ্কার করে ফেললেন। যা দিয়ে আবহাওয়াকে পরিবর্তন করে ফেলা যায়। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা যেখানে আবহাওয়া সমস্যা নিয়ে দিনের পর দিন কাজ করে চললেও তেমন কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। সেখানে প্রফেসর টাবুলের এই অদ্ভুত আবিষ্কার বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বেশ সাড়া জাগায়।

কারণ যে যন্ত্র মরুভূমিতে তুষারপাত, খরতাপিত এলাকায় বৃষ্টি ঝরিয়ে দিতে সক্ষম সে যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা সবাই অনুধাবন করতে পারে। যন্ত্রটার জন্য প্রফেসর টাবুল আমেরিকায় একটা বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে ডাক পায়। সঙ্গে নিয়ে চলেন তার ওয়েদার মেকার যন্ত্র ও প্রতিবেশী আসীমবাবু এবং তার প্রিয় কুকুরকে। কিন্তু আমেরিকাতে পৌছানোর পর চুরি হয়ে যায় তার ওয়েদার মেকার যন্ত্রটা। আর সেই যন্ত্রের চুরির পিছু ছুটতে গিয়ে শুরু হয়ে যায় শ্বাসরুদ্ধকর সব ঘটনা।

পাঠপ্রতিক্রিয়া ????
খুব ছোট্ট পরিসরে লেখক খুব সহজসরল ভাষায় লিখাটি শেষ করেছেন। যার ফলে খুব দ্রুত পড়ে শেষ করে ফেলেছি। প্লট খুব দুর্বল। এর আগেও এ ধরনের অনেক লিখাই পড়া হয়েছে। সেইজন্য লেখকের উপর একটু অভিমান করাই যায়। উনার মতো লেখকের কাছে ইউনিক একটা প্লটের আশা করেছিলাম। আসীমবাবু কাজকর্ম গুলো বেশ মজাদার ছিল। কিছু স্থানে উনার(আসীমবাবুর) সংলাপ গুলো একটু নিচু মানের।

গল্পের চরিত্র গুলো খুব সাদামাটা। কল্পনা করতে মজা পাইনি। জগদীশ বোসের চিঠিটা আমার প্রথম পড়া। চিঠিতে উনার মানুষিক গঠনের যে নমুনা পেয়েছি তা ভাবতে ভালো লেগেছে। সবশেষে উনার এই লেখাটাকে আমি শিশুদের জন্য পারফেক্ট বলবো( ভাষা ও গল্প খুব সহজসরল হওয়াতে)। আর লেখকের জন্য অবশ্যই শুভকামনা নতুন কিছু শুরু করাতে। উনার থেকে সামনেও আশাকরি দুর্দান্ত কিছু সাইন্স ফিকশন পাবো এই আশা রাখতেই পারি। আর বইয়ের ভেতরের পৃষ্ঠার মান, বাঁধাই বেশ উন্নত। চমৎকার প্রচ্ছদ, প্রথম দেখাতে ফেলুদা আর জটায়ুর কথা মনে করিয়ে দেয়।

বই : ওয়েদার মেকার
লেখক : পিনাকী ভট্টাচার্য
প্রকাশনী : #সূচীপত্র
পৃষ্ঠা : ৫২
মূল্য : ২৫০ টাকা

Subscribe to
Newsletter