Mobil uyumlu arayüzüyle bahsegel her cihazda mükemmel performans gösterir.
Bahis dünyasında istikrarın adı bahsegel olmuştur.
Kullanıcıların hızlı erişim için en çok tercih ettiği yol bahis siteleri sayfasıdır.
Adres engellemelerini aşmak için Bahsegel kritik önem taşıyor.
বাংলাদেশে প্রচলিত রাজনৈতিক বয়ানে অনেক ঐতিহাসিক বিষয়কেই ভুলভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ইতিহাসের এই ভুল উপস্থাপনের একটা হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। ভুল ইতিহাস চর্চা আমাদের রাজনৈতিক চিন্তাধারা আর আত্মপরিচয়ের পথকে কণ্টকাকীর্ণ করে রেখেছে। ইতিহাসের ওপরে এই আরোপিত ভুল চর্চার ফলাফল হয়েছে মারাত্মক। ইতিহাসের ভুল আর উদ্দেশ্য প্রণোদিত বয়ানের ফলেই বাংলাদেশে বিভাজনের রাজনীতি চর্চার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এই ভুল ইতিহাস চর্চাকে অবাধে চলতে দিলে ইতিহাসের এই উদ্দেশ্যমূলক বয়ানই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম সত্য বলে ধরে নেবে। ইতিহাসের ওপরে জমে থাকা ধুলোকালিকে যতটুকু পরিচ্ছন্ন করা যায়, ততই আমাদের জাতির মঙ্গল। ‘ইতিহাসের ধুলোকালি’ গ্রন্থ আমাদের ইতিহাসের গায়ে লেপ্টে থাকা ধুলোকালি ঝেড়ে পরিষ্কার করার একটা প্রয়াস।
প্রকাশক: গার্ডিয়ান পাবলিকেশনস
মূল্য: 270 টাকা।
১. বুক রিভিউ: ‘‘ইতিহাসের ধুলোকালি’’
লেখক: পিনাকী ভট্টাচার্য
প্রকাশক: গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৮
কাগজ: ৮০ গ্রাম (অফসেট)
বাঁধাই: মজবুত (হার্ড বোর্ডে)
মুদ্রণ মূল্য: ২৭০/- (দুই শত সত্তর টাকা) মাত্র
রকমারিতে: ৩০% ছাড় দিয়ে ১৮৯/- (একশত ঊননব্বই টাকা) মাত্র।
ইতিহাস তৈরি হয় ইতিহাসবেত্তাদের বয়ানে। যে যেমন করে পারেন, তার স্বীয় চিন্তা, দর্শন ও আদর্শকে উপস্থাপন করেন। সময়ের ব্যবধানে তার নাম হয় ‘ইতিহাস’। ইতিহাসের এক নিজস্ব রঙ আছে। পুরো পৃথিবী একজোট হয়েও সে রঙ বদলাতে পারে না; উল্টো নিজের মতো করে রাঙিয়ে যায় পৃথিবীকেই। অবশ্য বর্ণচোরাশ্রেণি ক্ষণিক সময় কৃত্রিম রঙের কারসাজির আয়োজন করতে পারে। কিন্তু ইতিহাস তার স্বভাবসূলভ ভঙ্গিমায় কারসাজির খেলা ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সেখান থেকে বেরিয়ে খাঁটি ও পরিশুদ্ধ ইতিহাস মাথা উঁচু করে ঘোষণা করে- ‘আমি সত্যের পক্ষে’।
ইতিহাসের দেয়ালে মিথ্যার প্রলেপ দেওয়ার অপচেষ্টা পৃথিবীর শুরু থেকেই চলমান। বিপরীতে একশ্রেণির সত্যাশ্রয়ী মানুষ সেই মিথ্যা প্রলেপ সরানোর লড়াই জারি রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরে কেউ প্রলেপ না সরালে স্বভাবতই ইতিহাসের গায়ে ধুলো-কালির স্তূপ জমে যায়। এমন সন্ধিক্ষণে কাউকে না কাউকে ধুলোকালি সরানোর দায়িত্ব নিতে হয়। মিথ্যায় চাপাপড়া ইতিহাসকে ধুয়ে-মুছে নতুন করে সত্যের চাদর পরিয়ে দিতে হয়। জোর করে চেপে দেওয়া ইতিহাসকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে হয়।
এই উপমহাদেশেও ইতিহাসকে কেটে-ছিঁড়েই নির্মাণ করা হয়েছে। সত্যের গায়ে মিথ্যার চাদর পরিয়ে দেওয়া হয়েছে অনেকাংশেই। বাংলাদেশেও প্রচলিত রাজনৈতিক বয়ানে অনেক ঐতিহাসিক বিষয়কেই ভুলভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ইতিহাসের এই ভুল উপস্থাপনের একটা হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। সময় এসেছে তার ব্যবচ্ছেদ করার।
ভুল ইতিহাস চর্চা আমাদের রাজনৈতিক চিন্তাধারা আর আত্মপরিচয়ের পথকে কণ্টকাকীর্ণ করে রেখেছে। ইতিহাসের ওপর এই আরোপিত ভুল চর্চার ফলাফল হয়েছে মারাত্মক। ইতিহাসের ভুল আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ানের ফলেই বাংলাদেশে বিভাজনের রাজনীতি চর্চার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এই ভুল ইতিহাস চর্চাকে অবাধে চলতে দিলে ইতিহাসের এই উদ্দেশ্যমূলক বয়ানই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম সত্য বলে ধরে নেবে। ইতিহাসের ওপর জমে থাকা ধুলোকালিকে যতটুকু পরিচ্ছন্ন করা যায়, ততই আমাদের জাতির মঙ্গল।
জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট, সমাজচিন্তক ও লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য ইতিহাসের ধুলোকালি মুছতে কলম হাতে তুলে নিয়েছেন। সময়ের এই চাহিদা মিটিয়েছেন তাঁর নতুন গ্রন্থ ‘ইতিহাসের ধুলোকালি’-তে। মিথ্যার প্রলেপ দেওয়া ধুলো সরিয়েছেন অনুপম ভঙ্গিতে। প্রচলিত ভুল ইতিহাস থেকে ছেঁকে ছেঁকে পরিশুদ্ধ ইতিহাস বের করে এনেছেন।
এক নজরে বইটির সূচিপত্র-
* ভারত ও বাংলা ভাগের দায়
* ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমানদের অবদান
* ভারতবর্ষ ও মুসলমান সম্পর্কে প্রচারিত ভুল ধারণা
* মাদরাসা প্রসঙ্গ
* মুক্তিযুদ্ধ, ভারত ও পাকিস্তান
* ভারত সম্পর্কে ভুল ধারণা
* হিন্দু ও মুসলমান প্রসঙ্গ
* বখতিয়ার ও নালন্দা
* রাশিয়া ও ইসলাম
* মৌলবাদ
* কমিউনিস্ট দলগুলোর সমস্যা
* ইসলামে বিজ্ঞান
* ভারত ও বাংলাদেশ ইস্যু
* মুক্তিযুদ্ধ
* আমেরিকা, পশ্চিম ও মুসলিম সম্প্রদায়
* ধর্ম ও সভ্যতা
* বাংলা ও মুসলমান
* ইসলামি রাজনীতি ও প্রথা : কিছু ভ্রান্ত ধারণা
* রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গ
* বিবিধ ভুল ধারণা
‘ইতিহাসের ধুলোকালি’ গ্রন্থটি বুদ্ধিবৃত্তিক দায়বদ্ধতা থেকে উৎসারিত; যার ফলে আগামী প্রজন্ম নির্মোহ সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানোর উপাত্ত পাবেন বইটিতে।
পিনাকী ভট্টাচার্যের সাহিত্য মানেই সুখপাঠের অনুভূতি। বরাবরের মতো এই বইটির স্বাদ নেওয়ার পর পাঠক উপলব্ধি করবেন, লেখক অসাধারণ মূল্যবান কিছু বইটিতে পাঠকদের সামনে নিয়ে আসতে পেরেছেন। আশা করি, বইটি থেকে পাঠক অনেক নতুন বিষয়ে জানতে পারবেন; যা এই জাতির আগামীর পথচলাকে হয়তো কিছুটা সহজ করবে।